
সংগৃহীত ছবি
ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। দুর্ভোগহীন অন্য রকম এক ঈদ যাত্রায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছিল ঘরমুখো মানুষ। একইভাবে স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে তারা। তবে সরকারি দীর্ঘ ছুটি থাকায় এখনও জমে ওঠেনি ফিরতি যাত্রা।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের ফিরতে দেখা গেছে।
তবে রাজধানীর প্রবেশপথ ও বহির্মুখগুলোতে নেই যাত্রীদের চিরচেনা উপচে পড়া ভিড়। বরং এখনও অনেকে যেমন ঢাকা ছাড়ছেন, আবার কেউ কেউ ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছেন।
রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ হিসেবে পরিচিত গাবতলী বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকায় দেখা যায়, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছেন অনেক কর্মজীবী। গ্রাম থেকে ঢাকায় প্রবেশ করা গাড়িগুলো থেকে বেশ ভালোই যাত্রী নামতে দেখা গেছে। একইভাবে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলোর আসনও তেমন ফাঁকা থাকছে না।
রাজদূত পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের এক কর্মী বলেন, আমাদের ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলোর কোনোটারই সিট ফাঁকা যাচ্ছে না। আবার ঢাকামুখো গাড়িও সব আসনে যাত্রী নিয়েই ফিরছে।
রাজাপুর ট্রাভেলসের টিকিট বিক্রেতা কামাল বলেন, কাঙ্ক্ষিত যাত্রী আছে। তবে ঈদের আগের দিনের মতো উপচে পড়া ভিড় নেই। মানুষ স্বস্তিতে যাওয়া-আসা করছে।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে তিশা প্লাস কাউন্টারের আব্দুল হাকিম নামের একজন জানান, ঈদের আগের তুলনায় এখন যাত্রী ভালো আছে। ঢাকা ছাড়ার গাড়িতেও সিট ফাঁকা থাকছে না, ঢাকায় ফেরার গাড়িতেও সিট ফাঁকা নেই।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী মো. জুবায়ের মাসুদ বলেন, এবারের ঈদ যাত্রায় বাস মালিক সমিতির অবস্থা তেমন ভালো না। ঈদ যাত্রার যাত্রী নামিয়ে ফিরতি যাত্রায় বাস খালি আসায় অনেক লস গুনতে হয়েছে মালিকদের। তার পরও যাত্রীদের স্বস্তির যাত্রা উপহার দিতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট।
যারা ঢাকায় আছেন, যানজটহীন পরিবেশ উপভোগ করছেন। গণপরিবহনগুলোর যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।
যাত্রীরা বলছেন, তারা এখন এক থেকে দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে পারছেন ১৫ মিনিটেই। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, এত অল্প যাত্রীতে তেলের খরচই উঠবে না।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, ধানমণ্ডি, কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই দিনের তুলনায় সড়কে পথচারী চলাচল ও যানবাহন বেড়েছে। তবে বেশির ভাগ গণপরিবহনে আসন ফাঁকা থাকছে।
তবে স্বস্তির ঈদ কাটিয়ে ঢাকায় ফিরতে পেরে খুশি যাত্রীরা।
//এল//