
ফাইল ছবি
বিশ্ববিদ্যালয়বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম নামগুলোর মধ্যে একটি অ্যাপল বর্তমানে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধে পড়েছে। একসময় দুটি পরাশক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অ্যাপল এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বড় চাপের মধ্যে পড়েছে।
গত ২ এপ্রিল, ট্রাম্প যখন সব বড় বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, তখনই অ্যাপলের শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন ঘটে। পরদিন, চীন পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ৩৪ শতাংশ শুল্ক ও কিছু দুর্লভ খনিজ পদার্থ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে অ্যাপলের শেয়ার আরও পড়ে যায়। বিশেষ করে, অ্যাপলের যেহেতু হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভরতা বেশি, এই ধাক্কা অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় তাদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।
বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া প্রায় সাত কোটি আইফোন চীনে তৈরি হয়। শুল্ক বাড়ানোর ফলে উৎপাদন খরচের ওপর যে প্রভাব পড়বে, তা প্রতি আইফোনে প্রায় ৩৩০ ডলার বাড়তি খরচ সৃষ্টি করতে পারে। এটি অ্যাপলের জন্য বড় একটি সংকটের সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে আইফোনের বিক্রি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং দাম বাড়লে গ্রাহক হারানোর ঝুঁকি আরও বাড়বে।
অন্যদিকে, চীনের বাজারেও অ্যাপলের পরিস্থিতি অশনি সংকেত দিচ্ছে। গত বছর চীনে অ্যাপলের রাজস্ব ৮ শতাংশ কমে গেছে এবং দেশটির স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো যেমন হুয়াওয়ে, অপ্পো ও শাওমি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চীনা সরকারও অ্যাপলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে শোনা যাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, চীন ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে অ্যাপল তাদের উৎপাদন সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যাবে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নজর দিলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন, সেখানে আইফোন উৎপাদন করা অত্যন্ত কঠিন এবং উচ্চ প্রযুক্তি ও শ্রম খরচের কারণে তা সম্ভব হবে না। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা করলেও সেটি বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার আদর্শ সিইও হিসেবে পরিচিত কুক এখন দু’টি বড় বাজারে সংকটে পড়েছেন। যদি অ্যাপল শিগগিরই কোনো চমকপ্রদ পরিবর্তন না আনতে পারে, তবে তার ১৪ বছরের নেতৃত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।
ইউ