
সংগৃহীত ছবি
মেহের আফরোজ শাওন কি অভ্যুত্থানের সহযোগী শক্তি ছিলেন না? শাওনের এ স্ট্যাটাস কি মানুষকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে নি? শাওনরা যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গিয়েছিলো, ঠিক তখনই হাসিনার পায়ের নিচের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক শক্তিটি 'নাই' হয়ে গিয়েছিলো। আজ শাওনকে আপনারা ফেসবুক এক্টিভিজমের কারণে গ্রেপ্তার করলেন। কী বার্তা দিতে চাইলেন?
সবাইকে আপনার কন্ঠের সাথে কন্ঠ মেলানোয় বাধ্য করাটাই আসল ফ্যাসিবাদ। ইউনূস কি শেখ হাসিনা 2.0 হতে চলেছেন? নাকি ইতোমধ্যে হয়ে গেছেন?
মনে রাখবেন, স্বয়ং আওয়ামী লীগের লাখ লাখ কর্মী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছিলো। ছিলো বলেই শেখ হাসিনা টিকতে পারে নি।
শাওনরা হাসিনার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তাদের ব্যবহার করবেন, আর আপনাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে গ্রেপ্তার করবেন, এই প্রতারণার জন্য এতো মানুষ জীবন দিয়েছে?
যে-কারণে মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গিয়েছিলো, ঠিক সে-কারণে মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। আপনাদের পায়ের তলার মাটিও শেখ হাসিনার মতোই 'নাই' হয়ে যাচ্ছে। যা শুরু করেছেন, তাতে আপনাদেরকেও একদিন হেলিকপ্টার ধরতে হতে পারে।
আপনাদের সামনে একটিই পথ খোলা আছে। দ্রুত নির্বাচন দিয়ে দেশত্যাগ করা। দেশে সমস্যার অন্ত নেই, দ্রব্যমূল্যে মানুষ দিশেহারা, অর্থনীতি স্থবির, মানুষের নিরাপত্তা নেই বললেই চলে, চারদিকে মব ভায়োলেন্স, পত্রিকা খুললেই খুন আর খুন, এগুলোর দিকে নজর নেই, এসেছে শাওনকে গ্রেপ্তার করতে!
শাওনের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই, হুমায়ূন আহমেদ আমার অত্যন্ত অপছন্দের মানুষ, তাঁর পরিবারও অত্যন্ত অপছন্দের, সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে পচে যাওয়া ও বিভ্রান্ত পরিবার হুমায়ূনের পরিবার, তিনি নিজেও বিভ্রান্ত লোক ছিলেন, কিন্তু অপছন্দের মানুষদের অধিকার রক্ষায় দাঁড়ানোই আসল মনুষ্যত্ব, যা বাংলাদেশের লোকজন দিন দিন হারিয়ে ফেলছে।
//
"খুব খারাপ কথা খুব উঁচু স্বরে বলতে পারাই বাকস্বাধীনতা। ভালো ভালো মিষ্টি কথা বলতে বাকস্বাধীনতার প্রয়োজন নেই। বাকস্বাধীনতা দরকার তখন, যখন আমি উচ্চারণ করতে চাই এমন সত্য, যা আপনি শুনতে চান না। যা শুনলে ও দেখলে রাগে টলে উঠেন খড়কুটোর মতো, যা আপনার ভাবনার জগৎকে লণ্ডভণ্ড করে দেয় এক ঝটকায়, তা নির্বিঘ্নে প্রকাশ করতে দেয়াই বাকস্বাধীনতা। মুখে ব্রণ আছে কি না তা দেখার জন্য আয়না যথেষ্ট হলেও, পিঠে ফোড়া আছে কি না তা জানার জন্য বাকস্বাধীনতার কাছে যেতে হবে। বাকস্বাধীনতা আমাকে, আপনার পিঠের ফোড়া ও তার ভেতরে জমা পুঁজের কথা বলতে বলে।"
.
—মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
//এল//