
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, চলতি করবর্ষে জমা পড়া ১৫ লাখ অনলাইন রিটার্নের মধ্যে ১০ লাখই শূন্য রিটার্ন।
সোমবার (২৪ মার্চ) সকালে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৫ লাখ অনলাইন রিটার্নের মধ্যে ৬৬ শতাংশই শূন্য রিটার্ন। এর মানে আমরা সঠিক করদাতাদের ধরতে পারছি না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে ১০ লাখ করদাতা তাদের আয়কর বিবরণীতে যে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন, তার বিপরীতে কোনো কর দিতে হয়নি।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা ব্যক্তিগত করদাতাদের কর ছাড়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি যৌক্তিক প্রস্তাব, তবে সমস্যা হলো, ডিজিটালি রিটার্ন সাবমিশনের ফলে সব তথ্য আমাদের হাতে চলে আসছে।’
তিনি আরো জানান, শূন্য আয়কর বিবরণী জমা পড়া ১০ লাখ করদাতার মধ্যে কেউ এক টাকাও ট্যাক্স দেয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমরা করমুক্ত আয়সীমা বাড়াই, তাহলে আরও বেশি করদাতা শূন্য রিটার্নে চলে যাবে।’
আলোচনা সভায় ইআরএফের পক্ষ থেকে বাজেটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর ওপর করের বোঝা কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ওপর করহার ৫ শতাংশে সীমিত রাখা এবং বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডকে করমুক্ত করা।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘কর হার বাড়বে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে রিডিউসড রেটে ট্যাক্স দিতে থাকা করদাতারা নিয়মিত রেটে চলে যেতে পারে।’ তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন, বৈষম্য কমাতে এবং সঠিকভাবে কর আদায় করতে আরও সময় নিয়ে কাজ করার জন্য।
এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশের কর ব্যবস্থায় আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সঠিক করদাতাদের চিহ্নিত করা এবং কর আদায় বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
ইউ