
সংগৃহীত ছবি
ডিজিটাল ও নাগরিক পরিসরে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং লিঙ্গভিত্তিক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধের আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা শাসিত না হয়ে বরং "কাউকে পিছনে না ফেলার" (এলএনওবি) নীতির আলোকে এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওয়াইডব্লিউসিএতে ভয়েসেস ফর ইন্টারেক্টিভ চয়েস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট (ভয়েস) এর আয়োজনে প্রমোটিং ডিজিটাল এন্ড সিভিক স্পেস এন্ড কমবেটিং জেন্ডার ডিসইনফরমেশন শীর্ষক নেটওয়ার্কিং সভায় বিশিষ্টজনেরা একথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ, গবেষক রেজাউর রহমান লেনিন, ড. মুহাম্মদ রফিকুজ্জামান, নারীপক্ষের ফেরদৌসী আখতার, মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের হিউম্যান রাইটস ভায়োলেসন্স প্রজেক্টের প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর নুরুনবী শান্ত, মানবাধিকার সংগঠন স্পার্ক-এর জেন্ডার লিড ডালিয়া চাকমা, বাংলা ট্রিবিউনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উদিসা ইসলাম, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক শারমিন উর নাহার, নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক নাদিরা পারভীন, চ্যানেল২৪ এর সিনিয়র রিপোর্টার জিনিয়া কবির সূচনা, জাহিদা পারভেজ ছন্দা, ভয়েসস ফর ইন্টারঅ্যাকটিভ চয়েস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (ভয়েস) এর প্রোগ্রাম উপ পরিচালক মুশাররাত মাহেরা
প্রমুখ । প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভয়েসস ফর ইন্টারঅ্যাকটিভ চয়েস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (ভয়েস) এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রমিতি প্রভা চৌধুরী।
আলোচনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শাসনামলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রান্তিককরণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি শৈশব থেকেই সামাজিকভাবে বঞ্চিত গোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক দায়িত্ব সংক্রান্ত পাঠ সংযোজনের আহ্বান জানান।
আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, "সাংবাদিক, এনজিও, সিএসও, ডিজিটাল অধিকার কর্মী এবং মানবাধিকার রক্ষাকারীদের একত্রিত হতে হবে, তথ্য আদান প্রদান করতে হবে, সফল কৌশল তুলে ধরতে হবে। ডিজইনফরমেশন প্রতিরোধ এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষা করার চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
প্রমিতি প্রভা চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা এবং জেন্ডার ডিজইনফরমেশনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা উপস্থাপন করে বলেন, "রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় উভয় পক্ষ থেকে বাকস্বাধীনতা হুমকির মুখে, তা রক্ষা করতে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন। বিভিন্ন অংশীদাররা একত্রিত হলে অনলাইনে এবং অফলাইনে বাকস্বাধীনতা এবং জেন্ডার সমতা রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।"
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এর ফলে গণতন্ত্রের ব্যাপারটাও প্রশ্নবোধক থেকে যায়।
নুরুনবী শান্ত বলেন, ট্রান্সজেন্ডার পুলিশের কাছে তার প্রতি অন্যায়ের অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে। এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বর্তমানে সমাজে বিদ্যমান বিভেদকে আরও তীব্র করার চেষ্টা করছে, যা মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও "কাউকে ক্ষতি না করার" নীতির শিক্ষা প্রয়োজন। অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান। যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, লিঙ্গভিত্তিক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধ এবং সকলের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল ও নাগরিক পরিসর নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
//এল//