
ফাইল ছবি
আজকের পত্রিকা প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ঈদের ছুটি কাটাতে আসা ঈদের দিন ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার গার্মেন্টস কর্মী মোহাম্মদ হাসান(২৩)কে পুলিশ আটক করে থানা হাজতে আটকে রাখে। রাত ১২টা ১৮ মিনিটে হাজতে থাকা জায়নামাজ পেঁচিয়ে বাথরুমে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে থানা পুলিশ জানিয়েছেন। থানায় দায়িত্বরত সেন্ট্রি তা দেখতে পেয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পরদিন দুপুরে ভোলা সদরের জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এর তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর এ ঘটনায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
নিহত হাসানের স্ত্রী নুর নাহারের দাবি, ‘মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে মেয়ে পক্ষের লোকজন আমার স্বামীকে মারধর করেছে। আর পুলিশও মিথ্যা মামলায় আসামি করে আমার স্বামীকে আটক করে হাজতে ভরেছে।’ হাসানের স্ত্রী নুর নাহার প্রশ্ন করে বলেন, ‘থানা হাজতের মধ্যে একজন আসামি জায়নামাজ দিয়ে কীভাবে আত্মহত্যা করতে পারেন?’
পুলিশ হেফাজতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির মৃত্যু একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ ব্ক্তব্য দিয়েছেন হাজত খানায় থাকা জায়নামাজ পেঁচিয়ে বাথরুমে হাসান আত্মহত্যা করেছে। এমএসএফ মনে করে, হাজতথানায় জায়নামাজ থাকতেই পারে কিন্তু ওটা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করা অসম্ভব। (একদিকে আত্মহত্যার জন্য তা ছোট, অপরদিকে জায়নামাজ বেশ মোটা হয়)। ফলে পুলিশের ব্যাখ্যাটি গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবী রাখে কারন রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করে। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা যে কোনো ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা পুলিশের আইনি দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মানবাধিকার ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
এমএসএফ হাসানের পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
ইউ