জাতীয়

উচ্চ আদালত ও উচ্চশিক্ষায় বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

ওমেনআই ডেস্ক : উচ্চ আদালত ও উচ্চশিক্ষাসহ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের দাবি জানিয়েছে দেশে বিভিন্ন স্কুল কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষকদের সংগঠন বাংলা ভাষা শিক্ষক পর্ষদ।

শনিবার বিকাল ৪টায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড মিলনায়তনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে সংগঠনটি এসব দাবি উপস্থাপন করে।

সংগঠনের সভাপতি ড. রতন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট জেসমিন সুলতানা শামসাদ ও বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. তপন বাগচী।সেমিনারে ‘আদালতে বাংলা ভাষার প্রয়োগঃ পাঠ পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড.আয়েশা বেগম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে ভিত্তি নির্মিত হয়েছে,তার উপর গড়ে উঠেছে আমাদের আজকের স্বাধীন – সার্বভৌম বাংলাদেশ। বায়ান্ন ও একাত্তরের চেতনায়,সংবিধানের চার মূলনীতির আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের কোনো বিকল্প নেই।

ড. আয়েশা বেগম সেমিনারে উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।জনগণের বিচারিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আদালতে গণমানুষের বোধগম্য ভাষা তথা বাংলা ভাষা ব্যবহার করা জরুরি বলে মত দেন তিনি।বাংলায় রায় লেখা যে কোনো দুর্বলতা নয়, বিচারকদের মধ্যে এই মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট জেসমিন সুলতানা শামসাদ তার বক্তব্যে উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।আইনের উচ্চতর গ্রন্থগুলো বাংলায় অনুবাদের উপর জোর দেন এই আইনজীবী।

ড. তপন বাগচী তার বক্তব্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের দীর্ঘ লড়াই- সংগ্রাম – ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে ভাষা বিকৃত করার যে প্রবণতা চলছে তার কঠোর সমালোচনা করেন এই সাহিত্যিক।
সভাপতির বক্তব্যে ড. রতন সিদ্দিকী বলেন- বাংলা ভাষা জন্ম থেকেই দ্রোহী। জাত্যাভিমানী পণ্ডিত ও প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধ অপশক্তির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাংলা ভাষা গণমানুষের মনে স্থান করে নিয়েছিল এবং বিকশিত করতে পেরেছিল।গ্রহণ -বর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার এই স্রোতধারা আরো সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জজ ফউজুল আজিম, মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা, আইন কমিশন; সরকারি বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী খান, টঙ্গী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফারজানা পারভীন ।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close