আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
অপরাধস্লাইড

নারী নৃত্যশিল্পীদের বিদেশে নিয়ে যৌনকাজে বাধ্য, নজরদারীতে গোটা শিল্পাঙ্গন

ওমেনআই ডেস্ক : সুন্দরী তরুণী নৃত্যশিল্পীদের আর্টিস্ট ভিসায় বিদেশের হোটেল ও ড্যান্সবারে নাচানোর নাম করে যৌনকাজে লিপ্ত রাখা নারী পাচারকারী চক্রের একটি অভিনব কৌশলের নাম। এই কৌশল অবলম্বন করে কোটি কোটি টাকা আয় করে দেশ ও বিদেশে অঢেল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন শিল্পাঙ্গনের কতিপয় অসাধু ব্যক্তি।

সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে কেবল নৃত্যাঙ্গন নয় গোটা শিল্পাঙ্গনের একাধিক অভিনয় শিল্পীসহ অনেকের আমলনামা ঘাটছে গোয়েন্দারা। ইতোমধ্যে শিল্পসংশ্লিষ্ট অন্তত ডজনখানেক নারী ও পুরুষের বর্তমান ও পূর্বের আমলনামা ঘাটছে গোয়েন্দারা।
সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত নৃত্যশিল্পী ইভানের বিভিন্ন মাধ্যম তথ্য উপাত্তের সূত্র ধরে বেশ কয়েকজন শিল্পসংশ্লিষ্টের নাম পেয়েছে গোয়েন্দারা। নারী পাচার রোধে কেবল সিআইডি নয়, র‌্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দাসংস্থার একাধিক টিম কাজ করছে। ইভানকে গ্রেপ্তারের পর ইতোমধ্যে ২০-২২টি ছোট বড় নৃত্য প্রশিক্ষণ গ্রুপের তথ্য সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দারা। ওইসব গ্রুপের কার্যক্রম যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা আরটিভি নিউজকে বলেন, সংশ্লিষ্ট মামলার সাসপেক্ট টোটাল ২৩ জন। এরমধ্যে মাত্র ৬ জন ধরা পড়েছেন। বাকিদের উপর আমরা নজরদারি করছি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শিল্পাঙ্গনের থাকতে পারে। তবে তা এখনই ক্লিয়ারভাবে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ইভানের কাছ থেকে আরও তথ্য উদঘাটন করতে গতকাল সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আমরা আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত ২০ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে যে নির্দেশ দেবেন সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এই মুহূর্তে এর বেশি কোনও তথ্য দেয়া যাচ্ছে না।
নারী পাচারের বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাবও মানবপাচার রোধে তৎপর রয়েছে। বিশেষ করে নারী পাচারের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর, যা র‌্যাব খুবই গুরুত্বসহকারে নিয়ে থাকে। ইভান নামের যে নৃত্যশিল্পী দুবাইয়ে বিভিন্ন ড্যান্সবারে তরুণীদের যৌনকাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছে, সেই ঘটনা আমাদের দৃষ্টিতে রয়েছে। এমন ঘটনার পেছনে যাদের হাত রয়েছে তাদের খুঁজে বের করতে আমরাও তৎপর রয়েছি। নৃত্যশিল্পী ইভান গ্রেপ্তার হওয়ার পর, শিল্পাঙ্গনের অনেকের বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। আমরা ওই অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। অভিযোগের সত্যতা পেলেই তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
সম্প্রতি দুবাই পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মাসে সিআইডি আজম খানসহ তার পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের মধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেই জবানবন্দির ভিত্তিতেই ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুবাইতে চার তারকাযুক্ত তিনটি ও তিন তারকাবিশিষ্ট একটি হোটেলের মালিক এই আজম খান। আজম খানের মালিকানাধীন হোটেলগুলো হলো ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্র্যান্ড ও হোটেল সিটি টাওয়ার।
পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দিতে আজম খান ও তার সহযোগীরা বলেছেন, এই নারী পাচার চক্রটি মূলত নৃত্যকেন্দ্রিক। কয়েকজন শিল্পী ও নৃত্য সংগঠক এই নেটওয়ার্কের অংশ। জড়িত রয়েছে ছোটখাটো ক্লাব পরিচালকরাও। ওইসব ছোটখাটো ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের যেসব নৃত্যশিল্পী গায়েহলুদসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নাচ করেন, তারাই ছিলেন এই পাচারকারী চক্রের প্রধান লক্ষ্য।

সূত্র : আরটিভি

সি/১৫/৯/১২.২৩

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close