আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
স্বাস্থ্য

করোনাভাইরাস চুপিসারে মস্তিষ্কে আক্রমণ করতে পারে : গবেষণা

ওমেনআই ডেস্ক : করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষ্য হলো ফুসফুস। পাশাপাশি এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে যে ভাইরাসটি কিডনি, যকৃৎ ও রক্তনালিগুলোতেও আক্রমণ করতে পারে। এছাড়া কভিড-১৯ আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি ও বিকারগ্রস্তসহ স্নায়বিক লক্ষণগুলোতে ভোগার কথা বলেছে। এতে বোঝা যায়, ভাইরাসটি মস্তিষ্কে আক্রমণ করতে পারে।

নতুন একটি গবেষণায় কভিড-১৯ ভাইরাস মস্তিষ্কে আঘাত করতে পারে বলে স্পষ্ট প্রমাণ দেয়া হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু লোকের মধ্যে এটা কেবল দুটি উপায়ে ঘটে; প্রথমত ভাইরাসটি মস্তিষ্কের কোষগুলোকে আক্রমণ করে এবং অনুলিপি তৈরি করতে কোষগুলোকে হাইজ্যাক করে। দ্বিতীয়ত এটাকে হোস্ট কোষের নিকটবর্তী সব অক্সিজেন চুষে নিতে দেখা যায় এবং এতে করে কোষগুলো মারা যায়।

যদিও ভাইরাসটি কীভাবে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। মস্তিষ্কের সংক্রমণ খুব বিরল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কিছু লোক তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উচ্চ ভাইরাল লোড বা অন্যান্য কারণে সংবেদনশীল হতে পারে।

নতুন এ গবেষণাটি বুধবার অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছিল এবং এখনো এটা প্রকাশের জন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়নি। তবে বেশ কয়েকজন গবেষক বলেছেন, গবেষণাটিতে সতর্কভাবে একাধিক উপায়ে দেখানো হয়েছে যে ভাইরাসটি মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সংক্রমিত করতে পারে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইমিউনোলজিস্ট আকিকো ইয়াসাকি বলেছেন, ভাইরাসটি যদি মস্তিষ্কে সংক্রমিত হয়ে যায়, তবে এর মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।

নতুন গবেষণায় ডা. ইয়াসাকি এবং তার সহকর্মীরা তিন প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কে সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন: কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির মস্তিষ্কের টিস্যুতে, একটি মাউস মডেলে এবং অর্গানয়েডগুলোতে।

জিকা ভাইরাসসহ অন্য জীবাণুগুলো মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সংক্রমিত করার জন্য পরিচিত। প্রতিরোধ কোষগুলো তখন ক্ষতিগ্রস্ত অংশে চলে যায় এবং সংক্রমিত কোষগুলোকে ধ্বংস করে মস্তিষ্ক পরিষ্কারের চেষ্টা করে। করোনাভাইরাস অন্য রোগজীবাণুগুলোর তুলনায় অনেক বেশি অগোচরে কাজ করতে পারে। ভাইরাসটি মস্তিষ্কের কোষের মেশিনারি বৃদ্ধি করে, তবে কোষগুলোকে ধ্বংস করে না। পরিবর্তে এটা সংলগ্ন কোষগুলোতে অক্সিজেন বন্ধ করে দেয়, ফলে কোষগুলো শুকিয়ে মারা যায়।

গবেষকরা এ সমস্যা সমাধানের জন্য শরীরের প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়ার কোনো প্রমাণ পাননি। ডা. ইয়াসাকি বলেন, ‘এটা এক ধরনের নিঃশব্দ সংক্রমণ। ভাইরাসটিতে প্রচুর ফাঁকি দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।’

জিকা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী অ্যালিসন মৌত্রি বলেছেন, এ অনুসন্ধানগুলো অর্গানয়েডে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে অন্যান্য পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। করোনাভাইরাস দ্রুত নিউরনের মধ্যকার সংযোগ (সাইনাপসিস) সংখ্যা হ্রাস করে বলে মনে হচ্ছে। সংক্রমণের পরের দিনগুলো এবং আমরা এরই মধ্যে সাইনাপসিসের পরিমাণে নাটকীয় হ্রাস দেখতে পেয়েছি।

ভাইরাস তার পৃষ্ঠের প্রোটিনের মাধ্যমে একটি কোষকে সংক্রমিত করে, যার নাম এসিই২। এ প্রোটিনটি পুরো শরীর এবং বিশেষত ফুসফুসে চলে যায়। পূর্ববর্তী সমীক্ষায় প্রোটিন লেভেলের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছিল, মস্তিষ্কের এসিই২ খুব কম রয়েছে। তবে ডা. ইয়াসাকি এবং তার সহকর্মীরা আরো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং পেয়েছেন, ভাইরাসটি সত্যই এ ডোরওয়ে ব্যবহার করে মস্তিষ্কের কোষগুলোতে প্রবেশ করতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমস

সি/১১/৯/৭.০০

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close