আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
প্রযুক্তি

ডিসপ্লে প্যানেল সংকটে পড়তে যাচ্ছে হুয়াওয়ে

ওমেনআই ডেস্ক : চীনভিত্তিক হুয়াওয়ের প্রিমিয়াম ডিভাইসের বৃহৎ দুই ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহকারী স্যামসাং ডিসপ্লে ও এলজি ডিসপ্লে। মার্কিন প্রশাসন হুয়াওয়ের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পরিসর আরো বর্ধিত করায় দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দুটি ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়ে ভাবছে। বাস্তবে এমন হলে ডিভাইস উৎপাদনের জন্য ডিসপ্লে প্যানেল সংকটে পড়বে হুয়াওয়ে। গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদ মাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ইটি টেলিকম।

স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের ডিসপ্লে প্যানেল নির্মাণ বিভাগ স্যামসাং ডিসপ্লে, যা শুধু হুয়াওয়ে নয়; মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের ডিভাইসেরও অন্যতম ওএলইডি ডিসপ্লে স্ক্রিন সরবরাহকারী। অন্যদিকে এলজি ইলেকট্রনিকসের ডিসপ্লে প্যানেল নির্মাণ বিভাগ এলজি ডিসপ্লে। এ প্রতিষ্ঠানটিও হুয়াওয়ের পাশাপাশি অ্যাপলের আইফোনের উন্নত ডিসপ্লে স্ক্রিন সরবরাহকারী।

স্যামসাং ডিসপ্লে বিষয়টি ঘিরে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে এলজি ডিসপ্লের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হুয়াওয়ের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পরিসর বাড়িয়েছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক না হলেও তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য উন্নয়ন করছে এমন প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে বিশেষ লাইসেন্স নিতে হবে, যা এলজি ডিসপ্লের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু তারা নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে মার্কিন প্রশাসনের রোষানলে পড়তে চায় না। যে কারণে হুয়াওয়েকে ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন গ্রাহক অন্বেষণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

গত মাসে হুয়াওয়ে ইস্যুতে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুয়াওয়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে হুয়াওয়ের ব্যবসা কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। নিজেদের পণ্য উন্নয়নে মার্কিন ব্যবসা অংশীদারদের কাছ থেকে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর পণ্য ক্রয়ের পথ বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ পরিস্থিতির মধ্যে হুয়াওয়ে ইস্যুতে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হুয়াওয়েসহ তাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। মার্কিন থাবা থেকে হুয়াওয়েসহ অন্য প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোকে বাঁচাতে তারা কঠোর হতেও দ্বিধা করবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক জারীকৃত সীমাবদ্ধতার লক্ষ্য বিশেষ লাইসেন্স ছাড়া হুয়াওয়েকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সেমিকন্ডাক্টর পেতে বাধা দেয়া। একই সঙ্গে ২১টি দেশে হুয়াওয়ের ৩৮টি সহায়ক প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন সরকারের কালো তালিকাভুক্ত করা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের ওয়েবসাইটে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাত্ক্ষণিকভাবে নিজেদের ভুল শোধরানো। নিজেদের যন্ত্রাংশের মাধ্যমে চীনা সরকারের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে হুয়াওয়ে, এমনটাই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। হুয়াওয়েকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিও বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও হুয়াওয়ের পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতা বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি দেশটি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি বরাবরই নাকচ করে আসছে হুয়াওয়ে।

শুধু হুয়াওয়ে নয়; সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে চীনভিত্তিক বাইটডান্স নিয়ন্ত্রিত শর্ট ভিডিও তৈরির সোস্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটক ও টেনসেন্ট নিয়ন্ত্রিত উইচ্যাট নিষিদ্ধে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময় ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে টিকটককে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

চীনের দাবি, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম নানা অজুহাত এবং অপকৌশলে বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, যা কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নেয়া হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তা দুর্বলতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম মার্কিন কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট। তবে চীন টিকটক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো পদক্ষেপ নাকচ করতে সক্ষম বলে দাবি করেছে।

চীনের অভিযোগ, বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে প্রতিযোগিতা নয়; একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে ট্রাম্প প্রশাসন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত হেনস্তার শিকার হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি থামাতে একের পর এক অন্যায় অভিযোগ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেক্কা দিতে সক্ষম সব চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন তথ্য নিরাপত্তার অভিযোগ তুলছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসার দিক থেকে দাবিয়ে রাখতে পরিকল্পিত ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে যোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অপকৌশলের জবাব দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ ও পন্থা চীনের হাতে রয়েছে। চীন প্রশাসন তাদের পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শুরু করলে তা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খুব একটা ইতিবাচক হবে না।

সি/১০/৯/৯.০০

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close