আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
জাতীয়স্লাইড

ইউএনওর ওপর হামলার মদদদাতাদেরও খুঁজে বের করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

     একাদশ জাতীয় সংসদে নবম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

ওমেনআই ডেস্ক : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার পেছনের কারণ উদঘাটনের সঙ্গে হামলায় মদদদাতাদেরও খুঁজে বের করা হবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনূর রশিদের সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে ইউএনওর যেই ঘটনা ঘটে গেছে সেটা কিন্তু তদন্ত করে দোষীদের কিন্তু গ্রেফতার করাও হয়েছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং বিষয়টা কি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু কিছু বলছে যে চুরি করার জন্য…শুধু চুরি না, এর সঙ্গে আরও কী কী ঘটনা থাকতে পারে সেগুলোও কিন্তু যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা আমি অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখি। সেখানে যদি আমার দলেরও লোক হয়, সমর্থক হয় তাকেও আমি ছাড়ি না, ছাড়ব না- এটা হল আমার নীতি। সেই নীতি নিয়ে আমি চলছি। ইতিমধ্যে যারা ধরা পড়েছে… তদন্ত করা হচ্ছে। পাশপাশি আরও তদন্ত করা হচ্ছে যে এই ঘটনার মূলে কি আছে? কেন এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটল?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে অপরাধী শনাক্ত করা বা তাদেরকে ধরা হয়েছে এবং এর পেছনে তাদের সঙ্গে আরও কারা কারা আছে, কাদের মদদে করেছে, সেটাও কিন্তু তদন্ত করা হচ্ছে। এটা খুব ভালোভাবেই তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে কোনো ঘাটতি নেই এবং ঘাটতি হবে না। অপরাধী ঠিকই শাস্তি পাবে। সেই ব্যবস্থা করব, অন্তত এইটুকু আমি বলতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘একটা কথা আপনারা জানেন যে, এই বাংলাদেশে কী ঘটনাটা ঘটেছে…পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টে ঘরে ঢুকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে…তিনি তো রাষ্ট্রপতি ছিলেন…গোটা পরিবারকে হত্যা করেছে… এবং সেই খুনিদের ইনডিমিনিটি দিয়ে বিচারের হাত থেকে মুক্ত করেছে। যারা এত বড় ক্রিমিনাল, এই ধরনের খুনি, ক্রিমিনালদের যখন প্রশ্রয় দেয়া হয়, মানসিকভাবে সেই দেশের মানুষের কী রকম চরিত্র হতে পারে সেটাই বিবেচ্য বিষয়।’

‘সেখান থেকে একটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসা, অন্যায়কারী… তাদের বিরুদ্ধে যেন শাস্তি হয়, বিচার হয় এটাই তো সব থেকে বড় কাজ। ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। সেই ঘটনার সাথে সাথে আমরা সরকারপক্ষ থেকে যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি কি-না সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। সে কারণে আমরা যখনই যেখানে যে ঘটনা ঘটে, যারা জড়িত, তদন্তে যার নাম আসবে, যে জড়িত, সে কে, কী করে- আমি সেটা দেখতে চাই না। আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কিন্তু নিচ্ছি এবং আমরা এটা নেবো’, যুক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে খুনিদের পুরস্কৃত করা হয় দূতাবাসে চাকরি দিয়ে। যে দেশে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। এ রকম অবস্থা ছিল সেই দেশটাকে ডিসিপ্লিনের ফিরিয়ে আনা, সেই দেশটাকে নিয়মমাফিক চালানো খুব কঠিন একটা দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমরা সরকারে আসার পর থেকে পালন করে যাচ্ছি।’

‘আমি আগেই বলেছি অপরাধী আমার চোখে অপরাধী। সে কোন দলের কে, কি আমি কিন্তু সেটা বিচার করি না। সেটা আপনারা দেখেছেন’, বলেন তিনি।

করোনাভাইরাস মোকাবেলাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,যারা এত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে তাদেরকে এইভাবে আঘাত করে এটা তো কখনও গ্রহণযোগ্য না।

গত বুধবার রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে ইউএনওর বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা হয়।

গুরুতর আহত ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরে তাকে ঢাকায় এনে জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মাথায় অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার ওয়াহিদার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সোমবার তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনায় ভাই শেখ ফরিদ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যে মামলা করেছেন তাতে এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে আসামি আসাদুল ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। হামলার ঘটনায় গ্রেফতারের পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মা/৯/৯/১৫.০৫

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close