আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
জাতীয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মানছে না রাজধানীর শতভাগ পাবলিক পরিবহন

ওমেনআই ডেস্ক : ৯১ দশমিক ৩ শতাংশ চালক ও হেলপার সরাসরি বাসের মধ্যে ধূমপান করে। এবং ১০০ শতাংশ পাবলিক পরিবহনে (বাস) তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে ধূমপানমুক্ত সাইনেজ পাওয়া যায়নি। সর্বপোরি ১০টি বাসের মধ্যে প্রায় ৯টি বাসেই ধূমপানের নিদর্শন পাওয়া যায়।

‘রাজধানীর শতভাগ পাবলিক পরিবহন (বাস) তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মানছে না’ শীর্ষক প্রতিবেদনে  উঠে আসে এমন চিত্র।

গত বছরের অক্টোবর মাসে রাজধানীর ২২টি রুটে এবং ৪১৭টি ননএসি বাসে ক্রসসেকশোনাল জরিপ কাজ পরিচালিত হয়।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এর সহযোগিতায় ‘পাবলিক পরিবহনে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সংক্রান্ত বেসলাইন সার্ভের প্রতিবেদন প্রকাশ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার বেলা ১১টায়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন (বিআরটিএ) আয়োজিত এ সভা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

জরিপ ফলাফলে দেখা যায় যে, ঢাকা শহরের ১০০ শতাংশ পাবলিক পরিবহনে (বাস) তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যদিও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে সকল পাবলিক পরিবহন ১০০ শতাংশ ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে।

পাবলিক পরিবহন জরিপ ফলাফল থেকে উল্লেযোগ্য সুপারিশমালা হচ্ছে, আইন ভঙ্গ করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিতকরণ ও রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং পাবলিক পরিবহনে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ রাখার পাশাপাশি পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের সচেতন করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব নুর মোহাম্মদ মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরটিএ’র সচিব খন্দকার অলিউর রহমান, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এর লিড কসালটেন্ট ড. শরিফুল ইসলাম, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের হেল্থ ও ওয়াস সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিবিআরটিএ’র পরিচালক (প্রশিক্ষণ) সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার শারমিন রহমান।

স্বাগত বক্তব্যে ইকবাল মাসুদ বলেন, ধূমপানে শুধু নিজের নয় বরং পরোক্ষভাবেও স্বাস্থ্য ক্ষতির উল্লেখযোগ্য কারণ। ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন তামাক নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে বলে এ সময় জানান তিনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেন, যদি কোনো পাবলিক পরিবহনে আইন অনুযায়ী ধূমপানমুক্ত সাইনেজ স্থাপন না করে থাকে তাহলে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ যাতে পরিবহনের ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান না করেন। তাহলে অবশ্যই সকল পরিবহন মালিক কর্তৃপক্ষ আইন মানতে বাধ্য হবেন।

সায়দাবাদ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কালাম বলেন, যদি চালক ও হেলপাররা নিজেরা পরিবহনে ধূমপান থেকে বিরত থাকেন তাহলে যাত্রীদেরকেও ধূমপান হতে বিরত থাকতে পরামর্শ দিতে পারবেন। এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে সকল বাস কাউন্টারে ধূমপানমুক্ত সাইনেজ স্থাপন করতে হবে।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), বাংলাদেশ এর লিড কসালটেন্ট ড. শরিফুল ইসলাম বলেন, বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো বাস চালক ও শ্রমিকদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মানতে বিভিন্ন উপায়ে সচেতন ও উৎসাহিত করতে পারেন। তাহলে পাবলিক পরিবহনে সকলের জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস প্রদানে ধূমপানমুক্ত রাখার শর্তারোপ করতে হবে।

সভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, সকল পরিবহনে ধূমপানমুক্ত চিহ্নিত সাইনেজ স্থায়ীভাবে স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ৯০ শতাংশ চালক ও হেলপারদের সচেতন করা সম্ভব। এবং বাকি ১০ শতাংশ যারা সচেতন করার পরেও আইন মানতে নারাজ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যদি সকল পরিবহন শ্রমিক, পেশাদার চালক ও হেলপাররা আইন প্রতিপালনে সচেতন হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে একটি তামাকমুক্ত দেশ গঠন করা সম্ভব হবে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাভার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শরফউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, গুলশান ট্রফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার নিউটন দাস, সিটিএফকে বাংলাদেশ এর গ্রান্টস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া ও প্রোগ্রাম অফিসার (অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ) আতাউর রহমান মাসুদ এবং বিআরটিএ’র পরিচালক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনজিও প্রতিনিধিগণ।

সভায় সকল অংশগ্রহণকারী একমত পোষণ করেন যে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সকল পাবলিক পরিবহন ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে। এছাড়াও সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশ ছিল যে, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ যেন নিয়মিত পাবলিক পরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এবং এর পাশাপশি বিআরটিএ আইনে ধূমপানের বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

মা/৮/৯/২১.২১

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close