আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
জাতীয়

‌‌এসডিজির লক্ষ্য র্অজন করতে হলে সিডও সনদের র্পূণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন’

ওমেনআই প্রতিবেদক : বাংলাদশে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটির যৌথ উদ্যোগে ‘সিডও দিবস’ ২০২০ উপলক্ষ্যে অনলাইনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট সোহলে রানা,এবং প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতিনিধি নাজমা আরা বেগম পপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, র্বতমান সরকার নারী বান্ধব, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি হয়েছে। তবে নারীর প্রতি বৈষম্য এবং সিডও সনদের ধারার উপর সংরক্ষণ প্রত্যাহার না হওয়ার জন্য মনস্তাত্তিক বাধাকে তুলে ধরেন। এরজন্য সাংবাদিকতাসহ প্রতিটি সেক্টরকে আরো গভীরে কাজ করার কথা বলেন। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের সংবিধানে নারী পুরুষের সমতার কথা বলা হলেও সিডও সনদের ধারার উপর সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করা সাংঘর্ষিক।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের পরিপূরক এই দলিলটিকে আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে বাংলাদশে মহিলা পরিষদ নানাভাবে ব্যবহার করে আসছে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার সিডও সনদ অনুমোদনের পর ৪ টি ধারার সংরক্ষণ প্রত্যাহারের জন্য নিয়মিতভাবে এডভোকেসি ও লবি করে আসছে। এর ফল শ্রুতিতে আইন বিভাগের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নারীবান্ধব আইন গৃহীত হয়েছে।
রের্কডকৃত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, একটি র্দীঘ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে সিডও সনদ গৃহীত হয়। তিনি এই সনদ বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন সামাজিক বৈষম্য দূর করে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বর্পূণ । এটি সকল ক্ষেত্রে নারীর সমতার কথা বলে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন সিডও সনদ অনুমোদনের ৩৬ বছর পরও ধারার উপর সংরক্ষণ প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন করতে হয়। ধারা-২ হলো সিডও সনদের মূল প্রাণ। নারীর সকল অগ্রগতির পথে মূল চ্যালেঞ্জ হলো নারীর প্রতি সহিংসতা। নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করে এসডিজির লক্ষ্য র্অজন করতে হলে সিডও সনদের র্পূণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতিনিধি নাজমা আরা বেগম পপি বলেন সিডও সনদে প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়টি ৯০ এর দশকে অর্ন্তভুক্ত করা হলেও বাস্তবতা অনুসারে দেখা যায় নারী প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি এখনো ক্রস কাটিং ইস্যূ হিসেবে দেখা হয়। তিনি সহিংসতার তথ্য বিশ্লেষণের সময় প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি সহিংসতার চিত্র আলাদাভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালস্টি সোহেল রানা বলনে ইউএন উইমেন বাংলাদশে সিডো সনদকে কাজের মূল ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করে এটি নারীর উন্নয়নের জন্য গুরুত্বর্পূণ একটি দলিল। অভিন্ন পারিবারিক আইন, নারীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আর্ন্তজাতিক সম্পাদক রেখা সাহা। সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবারের প্রতিপাদ্য তুলে ধরে বলেন সিডও সনদ নারীর প্রতি বৈষম্যদূরীকরণের হাতিয়ার। এই বৈষম্য দূর করতে হলে নারীকে নির্যাতন থেকে মুক্ত হতে হবে। এর জন্য সামাজিক সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে রাস্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই ধারার সংরক্ষণ প্রত্যাহারে সরকারের দায় সরাসরি জড়িত। এই সনদরে সুফল পেতে হলে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে, অসর্ম্পূণ কাজ সর্ম্পূণ করার উদ্যােগ নিতে হবে ।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা মহানগর কমিটির আন্দোলন সম্পাদক জুয়েলা জেবুননেসা খান। অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর কমিটির নেতবৃন্দ, জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠনসমূহ: ব্র্যাক, একশন এইড, টানিং পয়েন্ট, এডাব, আদিবাসী ফোরাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডশেন, বিএনডব্লিউএলএ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, গণসাক্ষরতা অভিযান,জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম, ঢাকা ওয়াইডাব্লিউসিএ, আদিবাসী নারী নেটওর্য়াক এবং সাংবাদিক সহ প্রায় ৭২ জন অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close