আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
উন্নয়নে নারীস্পট লাইট

বাসন্তী নিবাস : নারীর নিরাপদ আশ্রয়ের ঠিকানা

খাদিজা খানম তাহমিনা

রুমানা কুমিল্লা থেকে ঢাকায় যাবেন একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। ঢাকায় আত্মীয় বলতে যাঁরা আছেন, তাদের বাসায় যাওয়াটা সাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না, তাই মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর পল্লবীতে অবস্থিত “বাসন্তী নিবাস” হোটেলের ফোন নম্বরে কল করে বুকিং নিলেন আগামীকাল রাতটা যেনো নিরাপদে থাকা যায় সেখানে। বুকিং দিয়েই স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লেন রুমানা। এত কম খরচে নিরাপদ রাত্রি যাপন সত্যি অসাধারণ।
রুমানার মতো অনেক নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আরো এক ধাপ এগিয়ে এসেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
দেশের প্রথম মেয়েদের আবাসিক হোটেল, যেখানে মাত্র ৭১ টাকায় নিরাপদেে থাকা যাবে রাতে। এটা সত্যি যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসেন অনেক নারী। ভালো কোনো কলেজ বা বিশব্বিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা চাকুরির ইন্টারভিউ দিতেও আসেন অনেকে। অনেক সময় দেখা যায় রাতে থাকার জায়গা না থাকায়, স্বাবলম্বী হওয়া কিংবা উচ্চশিক্ষা লাভের স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যায় অনেক নারীর। আবার কখনো কখনো সঠিক সময়ে বাস কিংবা ট্রেন মিস করায় রাত কাটাতে হচ্ছে বাস স্ট্যান্ড কিংবা রেলস্টেশন। ঢাকায় নিকটাত্মীয় না থাকায় চাকরী কিংবা ভর্তির সুযোগ মিস করছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে এসে বিপদে পড়ে যান, কিছু বাজে ঘটনার পর রাতের জার্নিতে ভয় পান অনেকেই। এটা আসলে সত্যিখুব দুঃখজনক। নারীদের উচ্চশিক্ষা কিংবা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সাবসিডি প্রজেক্ট “বাসন্তী নিবাস।” যাতে রক্ষা পেতে পারে অনেকগুলো স্বপ্ন এবং রচিত হবে নারী স্বাধীনতার আরেকটি ধাপ। এই হোটলের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী হচ্ছেন নারী। নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁরা বদ্ধপরিকর।
womeneye24.কম থেকে কথা বলেছিলাম “বাসন্তী নিবাস” আবাসিক হোটেলের ইনচার্জ তাহমিনা আক্তারের সাথে।
প্রশ্নঃ “বাসন্তী নিবাস” এর সীট সংখ্যা কত, মানে কয়জন নারী একসাথে থাকা যাবে?
তাহমিনা আক্তারঃ আপাততঃ আমরা ৩৮ টি সিঙ্গেল ক্যাপসুল বেডের ব্যবস্থা রেখেছি। পরবর্তীতে সাড়া পেলে আমাদের পরিকল্পনা আছে একে প্রসারিত করার। প্রয়োজনে এখানের আরেকটি ফ্লোর ইনক্লুড করা হবে।
প্রশ্নঃ অনেকের প্রশ্ন ৭১ টাকায় আদৌ কি মান ভালো হবে, সে ক্ষেত্রে আপনি তাদের কি বলবেন?
তাহমিনা আক্তারঃ আমরা যদি এক টাকায় খাবার বিক্রি করতে পারি, পাঁচ টাকায় প্যাড কিংবা সাত টাকায় নতুন জামা, সেখানে ৭১ টাকায় কেন ভালো মানের আবাসন দিতে পারবো না। আসলে এই প্রজেক্টের অনুদান দেন ফলোয়াররা, টাকা দিয়ে মান যাচাই করা ঠিক না। আমি আপনাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আপনারা নিজেরা এসে দেখে যাচাই করে যান । আসলে আমাদের উদ্দেশ্য, সেবা দান করা, সুতরাং এখানে ৭১ টাকাটা অনেকটাই গৌণ। তারপরও আমি বলবো ৭১ টাকা অনেকের কাছেই খুব কম টাকা নয়। অনেক কষ্ট করে একটা মেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসে একটা স্বপ্ন নিয়ে এই মেয়েটার কাছে কিন্তু ৭১ টাকাটা খুব কম নয়। তার নিরাপত্তা যদি আমরা দিতে পারি তাহলে টাকাটা আসলে একটা ফর্মালিটি মাত্র।
প্রশ্নঃ নিরাপত্তার বিষয়ে আপনার খুব বলছেন, নিরাপত্তাটা কেমন হবে?
তাহমিনা আক্তারঃ আমাদের নিজেদের মেয়ে স্বেচ্ছাসেবক এবং কর্মকর্তারা এখানেই থাকেন। সিকিউরিটি ক্যামেরা কিংবা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দরজা করা হয়েছে। তাছাড়া বেডগুলো সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা, কারো প্রাইভেসি নষ্ট করার কোনো সুযোগ নাই।
প্রশ্নঃ ৭১ টাকার মধ্যে কি কি সুবিধা পাবেন একজন, প্রাইভেট রুম এবং নাস্তা দেয়া হবে কিনা?
তাহমিনা আক্তারঃ নিরুপায়দের জন্য এই উদ্যোগ। ঢাকা শহরে এসে একটা মেয়ে যেনো বিপদে না পড়ে, অসহায় হয়ে কারো দ্বারস্থ না হতে হয়, তাদের জন্য আমাদের এই বাসন্তী নিবাস। যারা বিশেষ সুবিধা চান, তাঁদের জন্য আসলে আমাদের এখানে কোনো ব্যবস্থা নাই। নাস্তা বলতে উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু না, সামান্য স্ন্যাকস্ এর ব্যবস্থা আছে। আমরা খাবারের ব্যবস্থা রাখি না কারণ একেকজনের খাবারের চাহিদা একেকরকম, এটা থেকে আমরা আপাতত বিরত আছি।
প্রশ্নঃ এখানে থাকার সুযোগ বা কিভাবে আপনারা সীট বরাদ্দ দেন, মানে কোনো ডকুমেন্ট বা তথ্য বা কাগজপত্র জমা দিতে হয় কি?
তাহমিনা আক্তারঃ ভালো বলেছেন, এখানে থাকতে হলে অবশ্যই এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, এবং জব বা ভর্তি যেকারণে ঢাকায় এসেছে সেটার কোন একটা কাগজ দেখালেই হবে।
প্রশ্নঃ ধরুন, কারো এক বা দুই রাত নয়, থাকতে হবে আরও কিছুদিন, সেক্ষেত্রে কি তাকে সেই সুযোগ দেয়া হবে,? সেক্ষেত্রে তার জনও কি সেই ৭১ টাকায় থাকার সুযোগ আছে?
তাহমিনা আক্তারঃ না। আমরা ১ম এবং ২য় দিন ৭১ টাকায় থাকার সুযোগ দিলেও ৩য় দিন থেকে প্রতি রাতের জন্য ২৯৯ টাকা করে দিতে হয়। এটা যেহেতু ইমার্জেন্সি থাকার জন্য সেহেতু এক বা দুইদিনের উদ্দেশ্য করা, সেখানে ৩য় দিন থেকে থাকতে হলে তাঁকে এটুকু পেমেন্ট করতে হবে।

প্রয়োজনে যোগাযোগ করার ঠিকানা: বাসা# ১৩ রোড# ২/ বি মিরপুর সাড়ে ১১, পল্লবী। (সেতারা কনভেনশন হলের পেছনে) । ফোন ০১৮৪৪৫৪৬০০০।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close