আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
খেলাধুলা

বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নও সুমাইয়ার

ওমেনআই ডেস্ক : লকডাউনের ঘরবন্দি সময়ে মুঠোফোন আর কম্পিউটার নিয়েই সময় কাটছিল সুমাইয়ার। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ঝোঁক ছিল। ঘরবন্দি সময়ে ফুটবলের শূন্যতা দারুণভাবেই অনুভব করছিল সুমাইয়া। এমন সময় ফেসবুকে সাজিদ নামের এক তরুণের ফুটবলের বিভিন্ন ফ্রিস্টাইল ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ফ্রিস্টাইল শুরু করে দেয় সুমাইয়া। সম্প্রতি ফেসবুকে নিজের ফ্রিস্টাইল ভিডিও আপলোড করে বেশ সাড়া ফেলেছে এ তরুণী।

সুমাইয়ার জন্ম জাপানে। মা জাপানি হলেও বাবা বাংলাদেশি। দুই বছর বয়স থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাস শুরু করে। ছোটবেলায় ভাইয়ের সঙ্গে ফুটবল খেলতে খেলতে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়ে যায়। তারপর সে যোগ দেয় স্কুলের ফুটবল টিমে। মাঝ মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে। ২০১৮ সালে বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ আয়োজিত সেমস ফুটবল ফেস্টে সুমাইয়ার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় তার দল। এ ছাড়া এ টুর্নামেন্টে একাধারে সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা ডিফেন্ডারের খেতাব যায় সুমাইয়ার ঝুলিতে।

চার বছর আগে ইনজুরির কবলে পড়ে সুমাইয়া। তখন চোট গুরুতর না হওয়ায় ফুটবল খেলা চালিয়ে যায় সে। কিন্তু গত বছর ফের লিগামেন্টে চোটের কারণে পায়ের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।

ইনজুরি কাটিয়ে আবার মাঠে ফিরতে পারবে ভেবেছিল কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে সুমাইয়া জানায়, ডাক্তার বলেছিলেন আমি আর কোনোদিন ফুটবল খেলতে পারব না, কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি। ফুটবলের সঙ্গে আমার পথচলা ছোটবেলা থেকেই। বিশ্বাস ছিল- এ সবকিছু কোনোদিন বাধা হতে পারবে না। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই আমাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে এনেছে।

ফুটবলে বাংলাদেশের কিশোরীদের সম্ভাবনা নিয়ে সে বলে, এখন আমাদের দেশে অনেক টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়, সবাই অনেক ভালো খেলছে এবং আগামীতে অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে। সুমাইয়ার প্রিয় খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর প্রিয় ফুটবল টিম ব্রাজিল। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নও দেখে এ তরুণী।

বর্তমানে সি ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এ-লেভেল পড়ছে মাতসুসিমা সুমাইয়া। এর আগে ডন বসকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ও-লেভেল সম্পন্ন করেছে। বাসার সামনের মাঠ কিংবা ছাদেই টুকটাক অনুশীলন আর ফ্রিস্টাইল প্র?্যাক্টিস করে সময় কাটাচ্ছে সুমাইয়া। ফিটনেস ধরে রাখতে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘাম ঝরাচ্ছে সুমাইয়া। ফেসবুকে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করছে। সুমাইয়ার ভিডিও দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়, অনেকে মেসেজ পাঠিয়ে জানতে চায় কীভাবে ফ্রিস্টাইল শুরু করা যায়। সুমাইয়া আরও বলে, এর একটি বিশেষ সুবিধা হলো ফ্রিস্টাইল ফুটবল প্র?্যাক্টিস করার জন্য বড় কোনো পরিসর বা মাঠের দরকার হয় না। বাসার ভেতরেই ঘরের এক কোণে অথবা ছাদে খুব সহজেই অনুশীলন করা যায়। যে কেউ চাইলেই খুব সহজেই ঘরে বসে ফ্রিস্টাইল রপ্ত করতে পারবে। বাবার ইচ্ছা মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু ফুটবলকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে চায় সুমাইয়া। তবে পেশা যেটিই হোক না কেন, ফুটবলকে সবসময় সঙ্গী রাখতে চায় সে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close