আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
শিক্ষাস্পট লাইটস্লাইড

অনলাইন ক্লাস : হচ্ছেটা কী

খাদিজা খানম তাহমিনা

রাফা খুব মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপে মুখ গুঁজে আছে। ঘরের সবাই খুব সাবধানে কথা বলা, চলাফেরা করছে। কিছুক্ষণ পরপর কি কি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, পাশেই মা ফারজানা সুলতানা লিমা খুব দ্রুত কি কি লিখছেন। শুনশান নীরবতা বিরাজ করছে ঘরে। এভাবে চললো প্রায় ১ ঘন্টা।

অনলাইন ক্লাস চলছিলো রাফার। রাফা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ বনশ্রী শাখার ক্লাস টু এর ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থী । বেলা ১১ টা থেকে পৌনে ১২ টা পর্যন্ত ক্লাস। এসময়টা সবাইকে খুব চুপচাপ থাকতে হয়। ১২ টা থেকে শুরু হয় তার প্রাইভেট আরবি ক্লাস। আবার ১ ঘন্টা। ক্লাস শেষ হলে ক্লান্ত হয়ে সোফায় শুয়ে টিভি অন করে বসে রাফা।

জান্নাতুল তিবা কোরডোভা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্লে শেণীর ছাত্রী। ঘুম ভাঙ্গা চোখ নিয়ে বসেছে মোবাইলের সামনে। মা কোলে নিয়ে বসে আছেন, তিবা মিসের লেকচার ( মজা করে) শুনছে। কখনো হাসছে, কখনো বিরক্ত হচ্ছে। আরও বন্ধুদেরও স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছে, তাই অনলাইন ক্লাসের সময়টা বেশ এনজয় করে তিবা।

করোনার কারণে আজ ঘরবন্দী আমরা। যাপিত জীবনে পড়েছে এর নানা প্রভাব। থেমে গেছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত শিক্ষাদান কর্মসূচি। অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা যখন দিশেহারা, তখন সিদ্ধান্ত এলো অনলাইন ক্লাস কর্মসূচির ঘোষণা। স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লেন কেউ কেউ। আবার এর বিপক্ষে অনেক যুক্তিতর্ক আছে।

সেশনজট এড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নিয়মিত সংযুক্ত রাখার চেষ্টায় সরকার এবং পাবলিক স্কুলগুলো শুরু করেছে অনলাইন ক্লাস। কিন্তু কতটুকু উপকৃত হচ্ছে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার শিক্ষার্থীরা? সব শিক্ষার্থী কি পাচ্ছে এই শিক্ষার আলোকছটা? নাকি এটা কোনো দায়সারা পদ্ধতি?

শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের অনেকের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে কিছু সাধারণ বিষয়। উঠে এসেছে কিছু সমস্যার কথা।

বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী আসে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। অনলাইন ক্লাস করার জন্য প্রয়োজনীয় স্মার্ট ফোন যা কিছু পরিবারের জন্য বিলাসিতাই। তার ওপর কয়েক দফার লকডাউনের জন্য নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থা খুব শোচনীয়। এদের পক্ষে স্মার্টফোনে অনলাইন ক্লাস করা অনেকটাই অসম্ভব । কারণ ক্লাস করার জন্য প্রয়োজনীয় মেগাবাইট কেনা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য চরম বাধা। প্রতিদিন অনলাইন ক্লাসের জন্য কমপক্ষে আড়াইশ থেকে সাড়ে তিন’শ মেগাবাইট প্রয়োজন, যা তাদের জন্য বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিদিন অনলাইন ক্লাস করার জন্য প্রয়োজনীয় এই মেগাবাইট কেনার খরচ তাদের পরিবারের পক্ষে সামলানো সম্ভব নয়।

অনেক শিক্ষার্থী বাস করে গ্রামে। অধিকাংশ গ্রামগুলোতে নেটওয়ার্কের অবস্থা করুণ। মাঝে মধ্যে যেখানে মোবাইল ফোনে কথা বলাই কষ্ট, সেখানে অনলাইন ক্লাস প্রায়ই অসম্ভব। অনেকে খোলা মাঠ কিংবা বাড়ি থেকে দূরে কোথাও গিয়ে ক্লাসে অংশগ্রহণ করে। তার উপর আছে ঝড়-বৃষ্টি বা আবহাওয়া প্রতিকূলতার দাপট, ফলে সেখানে ক্লাস করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুবিধা যথাযথভাবে ভোগ করতে পারছে। সচ্ছল পরিবার, ওয়াইফাই সুবিধা অথবা মেগাবাইট কেনার সুযোগ খুব কম শিক্ষার্থীই পেয়ে থাকে। প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত আছে। এতে অনলাইন শিক্ষার ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন।

অভিভাবকদের অনেকে বলছেন, অনলাইন ক্লাস দারুণ প্রস্তাব। কিন্তু সবাই যাতে ক্লাস করতে পারে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করি, সবার সুযোগ সুবিধা দেখতে হবে। শিক্ষা সবার জন্য সমান। এজন্য প্রয়োজন টেলিকম কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা।
শিক্ষার্থীরা একদিন দেশের হাল ধরবে, সুন্দর একটি দেশ গড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলেক্ট্রলাইটিক রেডিয়েশন স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘক্ষণ ইলেক্ট্রোনিক ডিভাইস ব্যবহার করলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুদের উপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। শিশুরা মোবাইল হ্যান্ডসেট অনেকক্ষণ ব্যবহার করলে তাদের স্মৃতি ও দৃষ্টিশক্তি লোপ পায়। শরীরে টিউমার হতে পারে। রেডিয়েশনের প্রভাবে একটা শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়ে থাকে। শুধু শিশুরা নয়, বড়রাও যদি শিশুদের কোলে নিয়ে মোবাইল ব্যবহার করেন তাহলে এর প্রভাব শিশুদের উপর পড়ে। ফলে অনলাইনে শিশুদের ক্লাসে আপত্তি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তবে সেটা যদি ল্যাপটপে হয় তাহলে অন্তত কিছুটা ভালো । তারা বলছেন, খুব বেশি প্রয়োজন হলে ৪০-৪৫ মিনিট পর ডিভাইসের সামনে থেকে শিশুদের সরিয়ে নিতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে। প্রযুক্তি হলো দুই দিকে ধারাল অস্ত্র। বামে গেলেও কাটবে, ডানে গেলেও কাটবে। ঘাড় সোজা করে বসে এই যে ক্লাসগুলো করছে এখানে একটি ইলেক্ট্রলাইটিক রেডিয়েশন আছে যে রেডিয়েশনটা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিক্ষারক। ছোট্ট পর্দায় এই যে মনোযোগ দিচ্ছে তাতে ঘাড়ে ব্যথা হচ্ছে, মাথাব্যথা হচ্ছে, চোখের দৃষ্টিশক্তি লোপ পাচ্ছে।
কোনো অবস্থাতেই একটানা ৪০-৪৫ মিনিটের বেশি ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না। মোবাইলের অপব্যবহারে শিশুদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মোবাইলের ক্ষতি সিগারেটের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। ফলে ডিভাইস ব্যবহারে আমাদের অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে।
জাতীয় নাক কান ও গলা ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. মাহবুব আলম বলেন, দীর্ঘক্ষণ হেডফোন দিয়ে কথা বললে কানে নানা ধরনের সমস্যা হয়। তাই দীর্ঘসময় হেডফোন ব্যবহার না করাই উচিত। একটানা না শুনে গ্যাপ দিয়ে দিয়ে কথা শুনতে হবে। দীর্ঘসময় মোবাইলের ছোট্ট পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখেরও সমস্যা হয় । বিশেষ করে শিশুদের স্মার্ট ডিভাইস দেওয়ার সময় অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে।

অনলাইন ক্লাসে উপকার কেমন? জানতে চাওয়া হয়েছিলো শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের কাছে-

★মো.জুবায়ের খান।
বিসিএসআইআর স্কুল, ধানমন্ডি, ঢাকা।
অনলাইন ক্লাস হওয়াতে স্কুলে যাবার ঝামেলা নেই। ঘরে বসে ক্লাস করতে পারছি। শিক্ষক এখন বেশি প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে আসছেন। স্কুল থেকে অনলাইনে পরীক্ষাও হয়েছে।

★ এই স্কুলেরই এক শিক্ষর্থীর অভিভাবক জনাব ফারুক খান বলেন, ক্লাস হচ্ছে, এটা অবশ্যই ভালো, কারণ বাচ্চাগুলোকে চাপ না দিলে তারা পড়তে চায় ন। তবে পরীক্ষা নেওয়াটা তেমন কোন লাভ হয় না, কারণ এখানে যেভাবে পরীক্ষা নেয়া হয়, এতে বাচ্চা দেখে দেখে বা অভিভাবককে জিজ্ঞেস করে লেখার সুযোগ পায়, তবে এটাও সত্য, কোনো সচেতন অভিভাবক চাইলে সঠিকভাবে পরীক্ষা নিতে পারেন। শিক্ষার্থীরা কিছুটা সময় হলেও পড়ার সাথে সংযুক্ত আছে।

★আবিয়াত তোহরা ইফফাত
একাদশ শ্রেণি।
বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ।

সবকিছুরই ইতিবাচক নেতিবাচক দুটি দিকই থাকে।অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে। ভাল দিক হচ্ছে সময় অনেকটা বেঁচে যাচ্ছে। ঘরে বসে পড়াশুনা করা যাচ্ছে। আবার ইন্টারনেট দুর্বল হলে ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না বা দেরী হচ্ছে।মাঝে মধ্যে লাইভ ক্লাসে কথাগুলো আটকে যাচ্ছে। তবু অনলাইন ক্লাস খারাপ লাগছে না…সুবিধাটাই বেশি।

★অভিভাবক ফারজানা সুলতানা লিমা বলেন,
অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত খারাপ নয়, তবে বাচ্চাদের চোখে সমস্যা হচ্ছে, এটা একটা অসুবিধা। এছাড়া আমি এই সিদ্ধান্তের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, মাঝেমধ্যে নেটওয়ার্ক ডিসটার্ব করে তখন বাচ্চা নিজেও বিরক্ত হয় আবার আমাদেরও মন খারাপ হয়, মনে হয় এই বুঝি বাচ্চা অনেক লেসন থেকে পিছিয়ে পড়লো কিনা।

★জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী
অষ্টম শ্রেণি
ব্রাঞ্চ – ৩
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।

অনলাইন ক্লাসের সুবিধা অসুবিধা দু’টোই আছে।
সুবিধাঃ
অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা যেকোনো বিষয় বুঝে নেয়ার পাশাপাশি যা বুঝতে পারে না, তা জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে পারে।
যেকোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে।
অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী যেকোনো স্থান থেকে তার ক্লাসে উপস্থিত হতে পারবে।
অসুবিধাঃ
একাধারে অনলাইন ক্লাস করার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। যেমন, চোখ ও মাথা ব্যথা।
সচরাচর একটি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থী যেভাবে
মনোযোগ দিতে পারে তা বর্তমান অনলাইন ক্লাসে হচ্ছে না।

★শাম্মী খানম সুমি।
সহকারী শিক্ষক।
লাইসিয়াম একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ।

করোনা ভাইরাস এর কারণে অনলাইনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক হিসেবে দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে পাশে থেকে কাজ করতে পেরে আমি অনেক গর্বিত।

★ অভিভাবক আয়েশা খানম বলেন, করোনায় পুরো বিশ্ব যেখানে থেমে আছে সেখানে আমাদের বাচ্চারা অনলাইনে পড়াশোনা করছে, কিছুটা সময় কাজে লাগাচ্ছে, আমারও সকালবেলা ওঠেই বাচ্চার স্কুলে যাওয়া, টিফিন বানানোর ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া- কম কি বলেন। ভালো লাগছে ঘরে বসে বাচ্চারা টিভিতে অযথা সময় নষ্ট না করে টিভিতে লেখাপড়া করছে। উল্লেখ্য মনিপুর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সম্প্রচার করছেন টেলিভিশনের মাধ্যমে।

ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল বাংলাদেশ এর উত্তরা প্রি-স্কুল এন্ড প্রাইমারি এর হেড অব সেকশন শিক্ষক নাজমুন নাহার । তিনি বলেন,

এখন একটা সিচুয়েশনে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে। যেটাতে আর কোনো বিকল্প নাই। ঘরে বসিয়ে রাখার চেয়ে অনলাইনে আমাদের বাচ্চারা ক্লাস করছে দ্যাট’স মাস্ট বেটার। আরেকটা ব্যাপার এমনিতেই এখন প্রযুক্তির সময়, এমনিতেই কিন্তু ওরা অনেক বেশি সময় গ্যাজেট নিয়ে থাকে বা অনলাইনে থাকে, কিন্তু আমরা ভীষণভাবে মাথায় রাখছি,, বাচ্চাদের হেলথ্ এর বিষয়টা মাথায় রেখে ওদের এইজকে বিবেচনা করে সময় সেট করে দিয়েছি যে, এতটুকু সময়ের বাইরে আমরা ক্লাস করাবো না। আমরা আমাদের প্ল্যানগুলোকে ইন্টারটেইনিং করে ভীষণ সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করেছি এবং আমাদের পেরেন্টরা হাইলি সেটিসফাইড আমাদের উপর। অন্য স্কুলের সাথে কম্প্যায়ার করবো না, তবে আমরা আমাদের বেস্টটা করতে চেষ্টা করেছি। আমরা একদম এপ্রিলের শুরু থেকে অনলাইন ক্লাস করাচ্ছি এবং আমরা মনে করি যে, আমরা খুবই সাকসেসফুল।

আমরা বিভিন্ন গ্রেডের জন্য বিভিন্ন সময় রেখেছি যেমন ১ ঘন্টা, ২ঘন্টা, একটু বড় যারা তাদের জন্য থ্রি আওয়ার।

আর বাকি জিনিসগুলো আমরা যেভাব ম্যনেজ করছি, আমরা বাচ্চাদেরকে বিভিন্ন ধরনের গুগলের ফর্ম ব্যবহার করে আমরা প্রশ্ন দিয়ে দিচ্ছি, এ্যাসাইনমেন্ট দিচ্ছি, যাতে করে ফিজিক্যালি ওদের ফ্রি টাইমটা যেনো অযথা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে না হয় অনেক সময় ধরে। আমরা হয়তো একটা রচনা সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়ে বা একটা ছবি আঁকবে ওরা । আমরা সুন্দর করে বুঝিয়ে ওদেরকে কাজটা দিয়ে দিচ্ছি। যাতে ওদের ডেস্কে বসে কাজটা শেষ করে জমা দিয়ে দিতে পারে। পরে একটা ডেট থাকে, সে ডেইটে এসে জমা দিয়ে দিতে পারে। এতে ওদের টাইমটা যেনো লস না হয়, আবার লেখাপড়াও যেনো ইফেক্টেড না হয়, লেসনটা যেনো সুন্দরভাবে চলতে পারে। সিলেবাসগুলোও টাচ করে যেতে পারে।

এরকম অনেককিছু মাথায় রেখে আমরা বিশদভাবে কাজ করে যাচ্ছি । যাতে বাচচাদের লার্নিং টাইমটা ইফেক্টেড না হয়।এটাও মাথায় রাখি যেনো অনেকসময় ধরে তাদের পিসিতে বসে থাকতে না হয়। হ্যা আমরা অনলাইন ক্লাসে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজও করাই । আমরা জুম-প্রো সিস্টেমে ক্লাস করি। আমাদের একেকটা ক্লাসে স্টুডেন্ট ক্যাপাসিটি ২০-২৪।

স্টুডেন্ট বেশি থাকলেও অনলাইন ক্লাস নিতে সমস্যা হওয়ার কথা না, কারণ টিচাররা অলরেডি ট্রেইনড আপ হয়ে গেছে। তাঁরা সেট করে নিতে পারেন, একদিন হয়তো পাঁচটা বাচ্চাকে কোশ্চেন করতে পারেন আবার তার পরদিন হয়তো আরও পাঁচটা বাচ্চার অ্যানসার নিতে পারেন। বাচ্চারা হান্ড রেইজ করে কথা বলতে চাইলে বলবে, আবার চ্যাট বক্সে নিজেদের কোনো কোশ্চেন থাকলে করতে পারে। জাস্ট ওরা ফিজিক্যালি হয়তো ক্লাসরুমে নাই তাছাড়া ক্লাসে যেখাবে ক্লাস নেওয়া হয় ঠিক সেভাবেই অনলাইনে ক্লাস হয়।

আমরা আসলে তো বুঝি, ক্লাসরুমে পড়ানো যে ওয়ার্মসটা সেটা তো কিছুটা কম হবেই কিন্তু এখন আমরা একটা সিচুয়েশনে পড়ে আমাদের বাচ্চাদের লেখাপড়ার বন্ধ না করে সারা পৃথিবী জুড়েই তো এভাবে চলছে। আমার বোনের বাচ্চারা আমেরিকায় ক্লাস করছে ঢাকায় বসে। ফেইস টু ফেইস ক্লাস তো তুলনামূলক একটু বেটার হবেই এটা তো জানা কথাই, বাট এটাও খারাপ না দিস ইজ অলসো আই মিন নট ব্যাড।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close