আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
অপরাধ

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোর খুন/ কি ঘটেছিল সেদিন

 

ওমেনআই প্রতিবেদক:
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর সদরে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পর তিন কিশোর মারা যায় ৷ ১৪ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৷ নিহতরা হলো পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮), রাসেল ওরফে সুজন(১৮) এবং নাঈম হোসেন(১৭) ৷ প্রথমে কেন্দ্র কতৃপক্ষ দাবি করেছিল, কেন্দ্রে কিশোরদের মধ্যে দুইটি গ্রুপ আছে, তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ৷ ওই ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে ৷ কিন্তু কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দুই গ্রুপের মারামারির কথা বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে ৷ পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং আহতদের কথায় এটি পরিস্কার হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরদের অভিযোগ, পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত হাত-পা বেধে নীচ তলার একটি কক্ষে কয়েক দফায় কেন্দ্রের লোকজন তাদের মারধর করে ৷ আর এই মারধর করা হয় গ্রুপে ভাগ করে ৷ মারধরের এক পর্যায়ে তাদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গাছের নীচে ফেলেও রাখা হয় ৷ জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পরও তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়নি৷ এক পর্যায়ে এক জন মারা গেলে তাদের পরে হাসাপাতালে নেয়া হয় ৷ ওই কিশোরদের সাথে হাসপাতালে কথা বলেছেন যশোরের সাংবাদিক তৌহিদ জামান ৷ তিনি আহত কিশোরদের উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘কেন্দ্রে চুলকাটার লোক না আসায় কিশোরদের একজন সবার চুল কেটে দেয়৷”

কেন্দ্রের প্রধান নিরাপত্তারক্ষীও তার চুল কেটে দিতে বললে কিশোররা পরে কেটে দেবে বলে জানায় ৷ এই নিয়ে গত ৩ আগস্ট সেই গার্ডের সাথে কিশোরদের বাকবিতণ্ডা হয় ৷ বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার বিচার করতে কেন্দ্রের কর্মকর্তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ১৭ জনের বিচার বসায় ৷ বিচারের নামে দুপরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত তাদের মারধর করা হয় ৷ আহত কিশোররা বলেছে, তাদের লোহার পাইপ, বাটাম ও রড দিয়ে পেটানো হয়েছে ৷ জানালার গ্রিলের ভেতর তাদের হাত ঢুকিয়ে বেঁধে ফেলা হয়৷ মুখের ভেতর কাপড় দিয়ে এবং পা বেঁধে মারধর করা হয় ৷ আহত কিশোরদের দাবি, এর আগেও তারা খাবার নিয়ে কয়েকবার প্রতিবাদ করেছে ৷

নিহত রাসেল ওরফে সুজনের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম নান্টু ৷ তাদের গ্রামের বাড়ি বগুড়া ৷ ভাই নিহত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি শুক্রবার সকালেই যশোরে যান ৷ তিনি বলেন, তার ভাই কয়েকদিন ধরেই সমস্যার কথা টেলিফোনে জানাচ্ছিল ৷ কিন্তু সমস্যা কী তা বলেনি ৷ তবে তারা ঈদের আগে খাবার নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল ৷ গার্ডদের লক্ষ্য করে ঢিলও ছুঁড়েছিল৷ সাইফুল ইসলাম আহত কিশোরদের সাথে হাসাপাতালে কথা বলেছেন ৷ তাদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘‘আগে নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কেন্দ্রের গার্ড এবং কর্মকর্তারা তাদের ১৭ জনকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে ৷ তাদের স্পর্শকাতর অঙ্গেও আঘাত করা হয় ৷ লোহার রড ও শক্ত কাঠ দিয়ে মারা হয়৷ জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর আবারও মারধর করে কেন্দ্রের লোকজন৷”

‘‘আমার ভাইসহ যে তিনজন মারা গেছে তাদের হাসপাতালে আগে নেয়া হয় ৷ বাকি ১৪ জনকে পরে পুলিশ গিয়ে হাসপাতালে নেয়”, জানান সাইফুল ৷ ঈদের আগেও ওই কিশোরদের একবার মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিকেলে যশোর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে ৷ যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রাব্বানী শেখ জানান, মামলায় আসামি হিসেবে তারা কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি ৷ তারা হত্যার জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন ৷ তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রের লোকজন আমাদের প্রথমে দুই পক্ষের মারামারির কথা জানালেও আসলে সেটি সত্য নয় ৷ ঘটনাটি এক পাক্ষিক ৷ তাদের মারধর করা হয়েছে তাতেই নিহত এবং আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে৷ তদন্তে জানা যাবে কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত৷” তিনি বলেন, এখন আর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাল্টা কোনো মামলা করার সুযোগ নেই৷

‘তদন্তে জানা যাবে কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত’:গোলাম রাব্বানি শেখ
পুলিশ এই ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করেনি বা কোনো আলামত উদ্ধার করেনি ৷ যশোর সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রচণ্ড মারধরের কারণেই ওই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে ৷

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ৷ কেন্দ্রে অবস্থানরত কিশোরদেরমধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে ৷ তাদের সাথে দেখা করতে আসা উদ্বিগ্ন স্বজনদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না ৷ কেন্দ্রটিতে এখন ২০৮ জন কিশোর আছে ৷
সূত্র: ডয়চেভেলে

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close