আমাদের ওয়েবসাইট www.womeneye24.com আপডেটের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত
খেলাধুলা

ইংলিশ লিগের প্রথম মুসলিম নারী রেফারির গল্প!

ওমেনআই ডেস্ক : ১০ বছর বয়সে গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে সোমালিয়া থেকে লন্ডনে পাড়ি জমান জাওয়াহির রোবেল। এখন তাঁর বয়স ২৬। আর এই বয়সেই তিনি ইংলিশ ফুটবল লিগের প্রথম মহিলা মুসলিম রেফারি হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। রোবেলের স্বপ্ন , তিনি একদিন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা পরিচালনা করবেন।

রোবেলের ডাকনাম জেজে। বন্ধুদের মাঝে সে এই নামেই পরিচিত। রোবেল প্রথমে স্থানীয় খেলাগুলোতে রেফারিং শুরু করেন। পরে স্থানীয় ক্লাবগুলোর প্রস্তাবনায় রেফারি হয়ে উঠেন রোবেল।

তাঁর ভাষায়, প্রথমে স্থানীয় খেলাগুলোই পরিচালনা করতাম। একদিন কিছু লোকজন বললো, তাদের খেলা পরিচালনার পর্যাপ্ত রেফারি নেই। আমি রেফারি হতে চাই কিনা। আমি রাজি হলাম। তিনি আরো বলেন, আমি কেবল খেলা পরিচালনা শুরু করেছি। আমি ফুটবলকে ভালবাসি, খেলার নিয়মগুলোকেও ভালবাসি। যারা আমাকে এই কাজ করতে সুযোগ দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ। তারা সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

তবে রোবেল ক্যারিয়ার নিয়ে ভিন্নভাবে ভেবেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন কিছুদিন খেলবেন। তারপর রেফারি হওয়ার চেষ্টা করবেন। রোবেল বলেন, আমি প্রথমে খেলোয়ার হিসেবে স্থানীয় একটি ক্লাব থেকে প্রস্তাব পাই। কিন্তু তাতে আমার বাবা-মা বাধা দেয়। তারা চেয়েছিলো আমি যেন অন্য মেয়েদের মতো সাধারণ জীবনযাপন করি। তবে আমার স্বপ্ন ছিলো একজন নামকরা ফুটবলার হওয়া। আর খেলোয়াড়ি জীবন শেষে রেফারি হওয়া। কিন্তু আমার সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে, আমি যা হতে পেরেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট।

রোবেল আরো বলেন, ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য আমাকে প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হয়। জিমে আমি প্রচুর ঘাম ঝরাই। আমার পড়াশোনা শেষ আর তাই এখন আমার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যা যা প্রয়োজন আমি এখন তাই করছি।

তবে খেলা পরিচালনা করতে গিয়ে নানাসময় রোবেল ব্যতিক্রম সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকেই তাকে দেখে অবাক হন। আবার অনেক খেলোয়াড় তাকে অপমানও করে ফেলেন। রোবেলের বলেন, মাঠে খেলোয়াড়েরা আমার হিজাব দেখে অবাক হয়ে যায়। আমার খেলা পরিচালনার প্রথম যেদিন আমি মাঠে যাই, সেদিন রেফারির জামা পরে যাইনি। পরে কর্মরত ব্যক্তির কাছে গিয়ে যখন রেফারির জামা চাইলাম তখন তিনি রীতিমত অবাক হলেন। তিনি বললেন, এটা অসম্ভব। আপনি কি সত্যিই রেফারি?

তিনি আরো বলেন, তার এমন অবাক হওয়া দেখে আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। আমি ভাবতাম, তারা কেন আমাকে দেখে অবাক হবে! তবে এখন আমি মানিয়ে নিয়েছি। এখন বরং তাদের অবাক হওয়া দেখে আমি মজা পাই।

মাঝে মাঝে খেলার মাঠে খোলোয়াড়রা আমাকে দেখে বলে, এটাতো পুরুষদের খেলা। তখন আমি তাদের বলি, এটা পুরুষদের খেলা এবং নারীদের খেলা। তুমি এসব না বলে খেলায় মনোযোগ দাও আর গোল করো। তবে খেলা শেষে তাদের অনেকে আমার কাছে ক্ষমা চায়। রোবেলের মতে, মানুষের দুর্বলতা ও অন্যদের সাথে তা প্রকাশ করার মাধ্যেই তাঁর শক্তি লুকিয়ে থাকে। রোবেল বলেন, দুর্বলতা প্রকাশ মানেই পৃথিবীর শেষ কথা না। বরং এ থেকে তারা শক্তি পেতে পারে যাতে করে নিজেদের আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে পারে। কষ্ট ছাড়া পৃথিবীতে কিছু অর্জন করা যায়না।

সূত্র- ইনসাইডার

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close