প্রবাস

ইতালির বাংলাদেশ কমিউনিটিতে কি হচ্ছে?

 

মাঈনুল ইসলাম নাসিম:
প্রায় দুই যুগ আওয়ামী লীগ, ইতালি এর সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী কমিউনিটি নেতা মাহতাব হোসেন মুখ খুলেছেন করোনাকালে ইতালির বাংলাদেশ কমিউনিটির ক্রান্তিকালে। ৩০ জুলাই ২০২০ ফেসবুকে নিজেই জানালেন ৮ বছর আগে অর্থবিত্তের কাছে যেভাবে হার মানে তাঁর নৈতিক সততা। ইতালি আওয়ামী লীগ কেন এবং কীভাবে ব্যক্তিলীগ ও পারিবারিক লীগে পরিণত হয়েছে তার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব হোসেন। তিনি লিখেছেন:
“আমি মাহতাব হোসেন, ইতালি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৮৮ সালে ইতালিতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ছিলেন জি এম কিবরিয়া। উক্ত আহবায়ক কমিটির নেতৃত্বে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জনাব মনিরুজ্জামান মনির ভাই। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে আমি সভাপতি নির্বাচিত হই। তখন থেকে আমি আমার সহযোদ্ধা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের সাথে নিয়ে তিল তিল করে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ইতালি আওয়ামী লীগকে ইউরোপ তথা সারাবিশ্বের মধ্যে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করেছি। তখন ফেসবুকের রাজনীতি ছিলো না। আমার সহযোদ্ধা সহকর্মীদের সাথে নিয়ে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের দরজায় হাজির হয়েছি। ইতালি আওয়ামী লীগকে সম্প্রসারিত করেছি, সংকুচিত করিনি। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা করেছি। কাউকে অপমানিত করে অশ্লীলতাকে ধারন করিনি। আমার সহযোদ্ধা ও সহকর্মীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগকে ইতালিতে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁদের সকলের মেধা ও পরিশ্রম ছিল। আওয়ামী লীগকে সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় আমি ২০০৩ সালের কমিটিতে শরীয়তপুরের সন্তান হিসাবে জনাব ইদ্রিস ফরাজিকে সম্মানিত সদস্যের পদে অন্তর্ভুক্ত করি। এই দীর্ঘ পথ চলায় জনাব জি এম কিবরিয়া, কে এম লোকমান হোসেন, হেনরি ডি কস্তা, আবু সাঈদ খান, হাসান ইকবাল, আলমগীর হোসেনসহ আমার অসংখ্য নেতাকর্মী সাথে ছিল। লেখার বিশালতার জন্য অনেকের নাম আমি প্রকাশ করতে পারলাম না, এজন্য আমি দুঃখিত। সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ২০১২ সালের সম্মেলনে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আদর্শিক প্রতিযোগিতায় তাঁরা আমার বিকল্প হিসেবে বিত্তশালী ইদ্রিস ফরাজিকে সভাপতি হিসাবে মনোনীত করলো। বলতে দ্বিধা নেই, ইদ্রিস ফরাজিকে সভাপতি বানাতে জনাব জি এম কিবরিয়া ও আলমগীর হোসেনের অবদান সবচেয়ে বেশি। জি এম কিবরিয়ার মেধাই ইদ্রিস ফরাজিকে সভাপতি বানাতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে। আমি আওয়ামী লীগকে ভালবেসে দলের স্বার্থে সব মেনে নিয়েছি। রাজনীতির কূটচালে আমার প্যানেলের সেক্রেটারি হাসান ইকবাল হয়ে যায় ফরাজী সাহেবের সেক্রেটারি। জি এম কিবরিয়া ও আলমগীর হোসেনরা হলো অবমূল্যায়িত। রাজনীতি শুরু হলো কূটনীতিতে। অনেক ত্যাগী নেতারা হলো বঞ্চিত। আওয়ামী লীগ পরিনত হলো পারিবারিক লীগ, ব্যক্তিলীগে। আজ পরিতাপের সাথে বলতে হচ্ছে, মতের অমিল, ক্ষমতার জন্য ফেসবুকে ফেইক আইডিতে নামে বেনামে ইতালি আওয়ামী লীগের সম্মানিত ও চির স্মরণীয় ব্যক্তিদের নামে নোংরা, অশ্লীল, নগ্ন সমালোচনা করে যাচ্ছে যা আমাদের কাম্য ছিলো না। এই নীচু হঠকারিতার প্রতিবাদ ও নিন্দার ভাষা একজন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমার জানা নেই। এদের বোধদয় কবে হবে জানি না। জি এম কিবরিয়া, কে এম লোকমান হোসেন, হেনরি ডি কস্তা এবং আমি মাহতাব হোসেনের হাতে গড়া ইতালি আওয়ামী লীগ কি নোংরা রাজনীতির আখড়া হয়ে যাবে? ইদানিং কিছু নেতাদের লেখায় দেখি পদ-পদবীর জন্য নাকি আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মীরা রাজনীতি করি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরি। আপনাদের মনে রাখা উচিত, একদিন আপনাদের পদ-পদবী ছিলো না, এমনকি আপনারা আওয়ামী লীগারও ছিলেন না। পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, হীন রাজনীতি চরিতার্থ করার জন্য যারা লোকজন দিয়ে জনাব জি এম কিবরিয়া ও কে এম লোকমান হোসেনের নামে বাজে কমেন্ট করাচ্ছেন তারা মনে রাখবেন ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। জনাব জিএম কিবরিয়া শুধু একজন আওয়ামী লীগ নেতা না, আমার দেখা মতে ইতালির বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন শ্রেষ্ঠ নেতা। সবাই ভালো থাকবেন। আমার ক্ষুদ্র পরিসরের লেখায় কেউ কষ্ট পেলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close