মতামত

বাংলাদেশের আকাশে সততার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন ‘বেবী মওদুদ’

হামিদ মোহাম্মদ জসিম
বাংলাদেশের আকাশে সততার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বেবী মওদুদ। একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যিক, নারী জাগরণের অগ্রদূত, সাবেক সংসদ সদস্য। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন ও মানবতার জননী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সততার প্রশ্নে আপসহীন আমাদের প্রিয় অভিভাবক বেবী আপার আজ প্রয়াণ দিবস।
২০১৪ সালের ২৫ জুলাই পবিত্র শুক্রবার আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি চিরতরে চলে গেছেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুনেই প্রিয় বান্ধবীকে অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বেবী আপা ছিলেন আমাদের অভিভাবক। সাপ্তাহিক বিচিত্রা পরিবারের একজন হিসেবে আমরা তাঁর নিখাঁদ ভালোবাসা পেয়েছি। রক্তের বন্ধন না থাকলেও তাঁর কাছ থেকে পেয়েছি মমতাময়ী বড় বোনের মমতা ও শাসন। তাঁর কাছেই সততার সঙ্গে জীবন যুদ্ধের অনুপ্রেরণা পেয়েছি। মানুষ কতটা নির্মোহ হতে পারেন, বেবী আপাকে কাছ থেকে না দেখলে জানাই হতো না। সাপ্তাহিক বিচিত্রা বন্ধ হওয়ার পরও তিনিই আমাদের ছায়া দিয়ে রেখেছেন। স্ত্রী সন্তান নিয়ে যেন মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে পারি, আন্তরিক চেষ্টা করে গেছেন। তিনিই সম্পৃক্ত করে গেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিদিনের সংবাদপত্র ভিত্তিক অনুষ্ঠান খবর প্রতিদিন এর সঙ্গে। তাঁকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য স্মৃতি। শত স্মৃতির ভিড়ে একটি আজ বলতে চাই। বেবী আপা সংরক্ষিত আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়ার পর পরই সফরসঙ্গী হিসেবে প্রথম ভারত সফরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। আমার ভিসা জটিলতার কারণে ভারত যাত্রা এক সপ্তাহ পিছিয়ে ছিলেন বেবী আপা। এমন

স্মৃতি কী এক জনমে ভোলা যায়?
বর্ধমানের বাড়িতে তাঁর চাচা-চাচী ও স্বজনদের কাছে আমার মতো নগন্য একজনকে ছোট ভাই কলিগ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আমি ছিলাম পুটুর আরেক মামা! জসিম মামা। বেবী আপার ছোট ছেলে আমাদের পুটু মামাকে এ দেশের সব মত পথের সাংবাদিকই চেনেন। ভালো বাসেন। অসংখ্য সাংবাদিকদেরই প্রিয় ভাগিনা পুটু। মূলত পুটুর কারণেই আমি বেবী আপার অগাধ ভালোবাসা পেয়েছি।
আমাদের কলকাতা সফরে পুটু ছাড়াও ছিলেন বেবী আপার ছোট বোন রুবি আপা। রেলগাড়ীতে আসা যাওয়া এবং এক সপ্তাহের কলকাতা অবস্থানকালীন সময়ের স্মৃতিগুলো মনে পড়লে আজও ভীষন্ন হয় মন। বেবী আপা নেই, ভাবতেই চোখ ভিজে যায়। এখনো প্রতিদিন পুটুর সঙ্গে একাধিকবার টেলি কথোপকথনে বেবী আপার স্পন্দন পাই। এমন একজন মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পরম করুণাময়ের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা জানাই।
কলকাতা ভ্রমণ শেষে ঢাকা স্টেশন থেকে আপন গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার সময় বেবী আপার ‘ধন্যবাদ জসিম….’ শব্দটি আজো কানে বাজে। আবারও আমাদের এক সঙ্গে ভারত ভ্রমণের কথা ছিল। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।

আরেকটা কথা, বেবী আপা এমপি হওয়ার পর অনেকই আমাকে তাঁর পিএস হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কেউ কেউ বেবী আপার কাছে হয়তো বলেওছিলেন। একদিন জাতীয় প্রেসক্লাবে বেবী আপা আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, জসিম তোমাকে অনেকেই আমার পিএস করতে বলছে। কিন্তু এমপি হিসেবে আমি সরকারিভাবে পিএস নয়, পিএ পাবো। তোমার মতো একজন সাংবাদিককে আমি পিএ করতে পারি না।
আপার কথায় আনন্দে আমার চোখ ভিজে গেল। আসলে জীবনে মান সম্মানটাকেই বড় করে দেখেছি। ভালোবাসার বিনিময়ে শুধু ভালোবাসাই চেয়েছি। বেবী আপার কাছে সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়ে আমি ধন্য। মহান আল্লাহ আমাদের বেবী আপাকে অনন্ত আনন্দলোকে রাখুক। আমাদেরকে সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে চলার শক্তি দান করুন। আমিন।

সামি/২৫/৭/১৯.৩২

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close