ফেসবুক থেকে

বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীর আবাসস্থল ‘বেগমপাড়া’

মনজুরে খোদা তরিখ

বেগমপাড়া কি?
বাংলাদেশের অসৎ-দূর্ণীতিবাজ ব্যবসায়ী-আমলা-রাজনীতিকদের পরিবার কানাডার যে সব স্থানে বাসা-বাড়ী কিনে বসবাস করে সেসব স্থানকে কানাডার বাঙালিরা ‘বেগমপাড়া’ বলে অভিহিত করে। কানাডায় আসলে সুনির্দিষ্টভাবে ‘বেগমপাড়া’ বলে কোন জায়গা নেই। ‘বেগমপাড়া’ হচ্ছে বাংলাদেশের লুটেরা-দূর্ণীতিবাদের দ্বিতীয় আবাস ভূমির প্রতিকী নাম। বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে তাদের পরিবার এখানে আয়েশী, নিরাপদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করে।

কিভাবে এলো বেগমপাড়ার ধারণা?
অন্টারিও’র একটি ব্যায়বহুল ও অভিজাত ছোট শহর মিসেসাওগা। কানাডার বিখ্যাত লেক অন্টারিওর তীর ঘেসে টরন্টো শহরের পাশে এটি অবস্থিত। এই শহরের একটি বড় কন্ডোমিনিয়ামে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা বহু অভিবাসী পরিবার বসবাস করতো। এই সব পরিবারের কর্তারা কাজকর্ম করেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। আর স্বামীদের অনুপস্থিতিতে স্ত্রীদের নিঃসঙ্গ এবং কঠিন জীবন সংগ্রাম নিয়ে ভারতীয় পরিচালক রশ্মি লাম্বা একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যে তথ্যচিত্রের নাম ছিল ‘বেগমপুরা’। সেই ‘বেগমপুরা’ থেকেই বেগমপাড়া’র নামটি এসেছে।

বেগমপুরা থেকে বেগমপাড়া হলেও কাহিনী বিপরীত!
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উচ্চবেতনে কাজ করা ভারত-পাকিস্তানের নাগরিকরা জীবনের এক সময় পরিবার নিয়ে অভিবাসী হয়ে কানাডায় চলে আসেন। কিন্তু কানাডায় এসে তারা তাদের পেশাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পেয়ে কানাডায় পরিবার রেখে ফের মধ্যপ্রাচ্যেই চলে যান। সেখান থেকে অধিক আয়ের অংশ তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পাঠান। আর তাদের স্ত্রীরা’ স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাই কঠিন সংগ্রাম ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের সন্তান ও পরিবারকে সামলিয়েছেন। তার মানে বেগমপুরার কাহিনী ছিল অনেক সংগ্রামের ও চ্যালেঞ্জের।
আর বাংলাদেশের কথিত বেগমপাড়ার কাহিনী তার বিপরীত। বাংলাদেশের বেগমদের সাহেবরা দেশে চাকরি, ব্যবস্যা-বাণিজ্য, রাজনীতি করে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে তাদের অর্জিত অবৈধ আয় কানাডায় পাচার করে তাদের বেগমদের কাছে পাঠায়। আর তাদের বেগমরা-সন্তানরা এখানে অভিজাত এলাকার দামী বাসা-বাড়ী-গাড়ীতে বিলাশবহুল আয়েশি জীবনযাপন করেন।

সেই প্রতিকী বেগমপাড়াগুলো কোথায়?
বেগমপাড়া বলে বাস্তবে কানাডায় কোন পাড়া, মহল্লা, এলাকা না থাকলেও এখানে এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে এ সব অসৎ-দুর্ণীতিবাজ বাংলাদেশীরা বসতি গেড়েছেন। কোথায় সে সব? সাধারণত যে সব এলাকায় বাংলাদেশীদের আনাগোনা নেই, স্থানীয় প্রবাসী পেশাজীবীরা বসবাস করেন না, সে সব এলাকেই তারা বেছে নিয়েছেন বসবাসের জন্য। এবং সে সব এলাকাকেই বাসা-বাড়ী, এপার্টমেন্ট কিনে বসবাস করছেন। যে স্থানগুলোকে এখানকার অভিজাত এলাকা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
জানা যায়, টরন্টোর বেলভিউ এলাকায় বিলাসবহুল হাইরাইজ কন্ডোমিনিয়াম, টরন্টোর প্রাণকেন্দ্র সিএন টাওয়ারের আশেপাশে, টরন্টোর পাশের শহর রিচমন্ড হিল, মিসেসাওগা এবং মার্কহামের অভিজাত এলাকায় বাস করে। অন্টারিও এলাকায় এমন প্রায় দুই শতাধিক বেগমপাড়ার সন্ধানের কথা শোনা যায়। এছাড়া আরো অনেকে কানাডার অভিবাসী হয়ে বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়েছেন।
কি করেন এই বেগমরা?
অভিজাত এলাকার এসব বেগমদের এখানে কোন কাজ-কর্ম করেন না, কিন্তু তারা দুই-চার-পাঁচ মিলিয়ন ডলারের বাড়ীর মালিক। তারা এখানে থাকেন কিন্তু তাদের জ্ঞাত আয়ের সাথে দৃশ্যমান জীবনযাপনের কোন মিল নেই। কানাডায় থাকা সাধারণ প্রবাসীদের পক্ষে সহজে এমন বাড়ী কেনা সম্ভব না। তাদের এরকম একটা বাড়ী কিনতে অনেক মেহনত করতে হয়। স্বামী-স্ত্রী ভাল চাকরি-ব্যবস্যা করে তবেই চিন্তা করতে পারেন এমন বাড়ীর কথা। যে কারণে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহজেই ধারণা হয়, তাদের এ সম্পদ তারা এখানকার আয় দিয়ে করেননি। বাংলাদেশ থেকে তারা অসৎ উপায়ে আয় করে অবৈধভাবে নিয়ে এসেছেন।

ফেসবুক থেকে নেয়া

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close