বিনোদন

‘মডেলিংয়ে জীবনের অর্ধকে সময় অতিক্রম করেছি’

ওমেনআই ডেস্ক : জনপ্রিয় মডেল, কোরিওগ্রাফার ও প্রশিক্ষক বুলবুল টুম্পা। দেশের ফ্যাশন মিডিয়াতে জনপ্রিয় মুখ টুম্পা। তিনি র‌্যাম্প মডেলে বর্তমান তারুণ্যের আইডল। ট্রেইনার হিসেবেও ইতোমধ্যে কুড়িয়েছেন বেশ নামডাক।

মডেলিংয়ের শুরুর গল্প…
কাজের ক্ষেত্রে শুরুটায় অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। অনেক বেশি পরিশ্রম করেছি নিজের সেরাটা দেয়ার জন্য। ১৯৯৮ সালের মে মাসে মডেলিং নিয়ে মিডিয়াতে প্রথম যাত্রা শুরু করি। এখনো চলছে।

সময়ের সাথে শিল্পের ধরন…
মডেলিংটা শুরুর দিকে একটু অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে ছিল। তখন সব মানুষের কাছে মডেলিং সর্বজনস্বীকৃতি পাইনি। তাছাড়াও এর পরিধি ছিল খুব ছোট। আগে যেমন তিন মাস রিহার্সেল হওয়ার পরে একটা শো ছিল সেটা ডিজাইনার বেইস হতো। তবে খুব পরিশ্রম করত সবাই। অনায়াসে একটা কাজ সবাই পেত না। সেখান থেকে আস্তে আস্তে এই পরিধিটা বাড়তে থাকে। তখন নেগেটিভ রোল ছিল। এখন যেমন ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল ক্যামেরা। তখন ছবি তোলার পর সেটা পরিষ্কার করা হতো। তারপর একটা ছবি দেখতে পেতাম। সেক্ষেত্রে পরিবর্তন তো হয়েছে, আরো হবে।

অসুবিধা মনে করি…
মডেলিং জগতে জীবনের বাইশ বছর অতিক্রম করেছি। এখানে এসে অসুবিধা মনে করলে অসুবিধা মনে হয়। তবে এই জায়গাটা অনেক সুন্দর। কাজের জন্য সবাইকে পরিশ্রম করতে হয় বেশি বেশি। মানুষ জেনে বুঝে সঠিক পথে এলে খুব একটা অসুবিধা হয় না। অনলাইনের কল্যাণে অনেক দুষ্ট চক্রের ফাঁদে পড়ে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। যার ফলে মিডিয়ার ওপর মানুষের একটা ভুল ধারণা জš§ নেয়। সঠিক সময় সঠিক পথ অনুসরণ করলে খুব একটা অসুবিধা হয় না।

করোনায় স্থবির কাজ…
মহামারীতে অনেকগুলো কাজ আকটে আছে। বৈশাখ আর ঈদে আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব হয়। কিন্তু কোন কাজই করতে পারিনি। আগামী ঈদেও তেমন কাজ করা সম্ভব হবে না। এখন অনেক খারাপ একটা পরিস্থিতি পার করছি আমরা। এখন পরিবারকে সময় দিচ্ছি। নিয়মিত খবর পড়ছি, টিভি দেখছি, যেসব সিনেমা আগে দেখা হয়নি সেগুলো দেখছি। শরীরচর্চা করছি। পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার কাজে ফিরব।

কোরিওগ্রাফি নিয়ে…
মডেলিংয়ের অনেক পরেই কোরিওগ্রাফি নিয়ে কাজ শুরু করি। কোরিওগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনার কোনো বই নেই। অনেকের সহকারী হিসেবে কাজ করেছি, ইন্ডিয়ান কোরিওগ্রাফার ও বাংলাদেশি কোরিওগ্রাফারদের সাথে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমার জুনিয়রদের মধ্যে যদি ভালো কোনো গুণ থাকে তাদের দেখেও শেখার চেষ্টা করি।

স্বাচ্ছন্দ্য বোধের জায়গা…
মডেলিং করতে খুব ভালো লাগে। যদি জিজ্ঞেস করা হয় পরের জন্মে কি হব অবশ্যই আমি মডেলিংটা বেছে নিব। মডেলিংয়ের জন্য মূলত আমাকে সবাই চেনেন। কোরিওগ্রাফিও ভালো লাগে। কোরিওগ্রাফি দিয়ে পুরো একটা শো পরিচালনা হয়। দুটোকে খুব অনুভব করি। আসলেই কাজকে পছন্দ না করলে কোনোটায় করতে পারতাম না।

মডেলিংয়ের গন্তব্য…
আমি চাই উন্নত দেশের মত আমাদের দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিও পরিচিত হয়ে উঠুক। সারা বিশ্বে মিডিয়া জগতে মডেলরাই সবচেয়ে ডিমান্ডেবল পারসন। বাংলাদেশেও ঐ জায়গাটা একদিন তৈরি হবে। র‌্যাম্পের মানুষরা আসলেই অনেক সুন্দর আর পারসোনালিটি সম্পন্ন। আমি স্যালুট করি আমাদের দেশের মডেলদের কারণ আমাদের দেশে কোন এজেন্সি নেই। একজন মডেল সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে সেটা বিশাল ব্যাপার। আমি এই অঙ্গনটির গন্তব্য হবে ‘প্রতিষ্ঠিত’ হওয়া। আমি অঙ্গনটি প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close