অন্যান্য

অবাক হওয়ার ঘটনা হলো ক্ষমতা,টাকা পয়সা সহ হাজারো প্রলোভন থাকা সত্ত্বেও জিন্নার একমাত্র মেয়ে পাকিস্তান যাননি!

অবিভক্ত ভারতের রাজনীতিতে দুই বিশাল ব্যক্তিত্ব ছিলেন মোহন চাঁদ গান্ধী আর মোহাম্মদ আলী জিন্না। নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর উপর উনাদের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল।

ভারত ভাগের পর পরই মোহন চাঁদ গান্ধী আর মোহাম্মদ আলী জিন্না এ দুজনের মৃত্যু হয় যার জন্য দুই দেশে রাজনীতিতে উনারা পরীক্ষিত হতে পারেননি এখনও উনারা নিজ নিজ দেশে জনপ্রিয়তম ব্যক্তিত্ব।

অবাক হওয়ার মতো ঘটনা হলো ক্ষমতা,টাকা পয়সা সহ হাজারো প্রলোভন থাকা সত্ত্বেও জিন্নার একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়া পাকিস্তান যাননি!নিজের মায়ের জন্মস্থান প্রিয় শহর বোম্বাইতে থেকে গিয়েছিলেন

আজ এই লেখাটি দিনা ওয়াদিয়াকে নিয়ে ১৯১৯ সালের ১৪ আগস্ট মধ্যরাত পেরিয়ে ১৫ আগস্ট লন্ডনে দিনার জন্ম।তিনি জিন্নার দ্বিতীয় স্ত্রী রতনবাই ওরফে মরিয়ম জিন্নাহর একমাত্র সন্তান।রতনবাই ছিলেন একজন পার্সি।যখন দিনার বয়স মাত্র নয়,তখন তিনি মারা যান।দিনা বড় হয়েছেন তার নানীর কাছে।

প্রেমজিভাই মেঘজিভাই ঠক্কর,গুজরাটি,কট্টর হিন্দু, নিরামিষভোজী।তিনি ছিলেন মহম্মদ আলি জিন্নার ঠাকুরদা,হ্যাঁ উনার বাবার বাবা।জিন্নার দাদা ছিলেন নিরামিষভোজী কট্টর হিন্দু!

প্রেমজিভাইয়ের ছিল মাছের ব্যবসা ফলে আত্মীয় – স্বজন,পাড়া – পড়শী সবাই এই ব্যবসার কারণে তাঁকে “একঘরে” করে রেখেছিল।সে আমলে এমন কান্ড হত, ছোট ছোট ব্যাপারে গ্রামের কারো কারো ধোপা,নাপিত বন্ধ হয়ে যেত।নিরামিষভোজী মানুষ মাছের ব্যবসা করবে এটা কেউই ভালো চোখে দেখেনি।তিনি মাছের ব্যবসা বন্ধ করে দিলেন,তবু বাকিরা তাঁকে অচ্ছুৎ করে রেখে দিলেন।এতে খুব রাগ হল তাঁর,রাতারাতি সপরিবারে তিনি চার ছেলেকে নিয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করলেন।এ গেল গোড়ার ইতিহাস।

তবে আজকের এ গল্প জিন্নার একমাত্র কন্যা দিনা জিন্নাহ কে নিয়ে , ভারতভূমিকে যিনি মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন সেই এক রমণীর কথা।

মহম্মদ আলী জিন্নার একমাত্র কন্যা,একমাত্র সন্তান, একমাত্র উত্তরাধিকারী ১৯১৯ সালের ১৫ই আগস্ট লন্ডনে জন্ম,তাঁর ভারতভূমির প্রতি কোন টান থাকারই কথা নয়।বাবা নুতন দেশ পাকিস্তানের সর্বেসর্বা হতে চলেছেন তখন ১৯৪৩সাল।স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর ছেলে নাসলি কে নিয়ে তিনি তখন একা অর্থনৈতিকভাবেও বেশ বিপর্যস্ত।

ওপারে অর্থাৎ পাকিস্তানে যাওয়া মাত্র অঢেল ক্ষমতা, পজিশন, টাকা সবই কিছুই তাঁর আয়ত্তে আসবে।কিন্তু না তিনি যাননি প্রিয় শহর বম্বে ছেড়ে তিনি এক পাও নড়েননি।

১৯৩৮ সালে পার্সি এক ছেলেকে পছন্দ করেন দিনা। নাম নেভিল ওয়াদিয়া।জিন্না বেঁকে বসেন ,এ বিয়ে কিছুতেই হতে পারে না। মুসলিম কন্যার সাথে পার্সি ছেলের বিয়ে ? অসম্ভব,মেয়ের বিয়েতে আশীর্বাদ করতে আসেননি জিন্না। ড্রাইভার আব্দুল হাইয়ের হাত দিয়ে ফুলের তোড়া পাঠিয়ে কাজ সারেন। অথচ অল্পবয়সে মাতৃহারা এই কন্যাটিই সব কিছু ছিল জিন্নার।

তবু বাবার আদুরে কন্যা স্বাধীনতার প্রাক্কালে পিতাকে জানিয়ে দেন অমোঘ দৃঢ় স্বর তিনি ভারতেই থাকছেন। তাঁর বাবা তখন শেষ চেষ্টা করেন, লাহোর, করাচি সম্বলিত মুসলিমদের জন্য এক স্বপ্নের দেশের মায়াকাজল পরানোর চেষ্টাও করেন… দিনা বলেন,” তুমি কি বম্বে থেকে আমার মায়ের কবর নিয়ে যেতে পারছ পাকিস্তানে? “…. “Bombay is my city, আমার শহরের নাম বম্বে।” এই শেষ কথা তাঁর বাবার সাথে।

আক্ষরিক অর্থেই ভগ্ন হৃদয়ে পিতাকে বিদায় দেন। দেশ ভাগাভাগির পর তিনি আর দেখতে যাননি কেমন হল তাঁর বাবার প্রিয় সেই দেশ, তাঁর বাবার স্বপ্নের ভাগাভাগি, স্বপ্নের পাকিস্তান।তবে তিনি গিয়েছিলেন তার পরের বছর ১৯৪৮ সালে বাবাকে শেষবিদায় জানাতে,জিন্নার শেষকৃত্যে।

একদিনের জন্য গিয়েছিলেন। পিতার পাকিস্তানের বিপুল সম্পত্তির কণামাত্র দাবি করেননি তিনি ফেরত আসেন বোম্বেতে।

১৯৪৬ এ দেখা হয়েছিল দু’বছরের নাতি নাসলির সাথে দেখা হয়েছিল তাঁর দাদু জিন্নার।নিজের মাথার একটা ছাই রঙের টুপি পরিয়ে দিয়েছিলেন নাতির মাথায়।জিন্না তাঁর ডায়রিতে লিখেছিলেন এটি তাঁর জীবনের খুব স্পেশাল একটা দিন।

১৯৪৭ সালে দিনার ছেলে নাসলির বয়ল মাত্র তিন বছর। তবু বম্বেতেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন দিনা ওয়াদিয়া। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হবার পরেও তিনি জিন্না পদবীতে আর ফেরত আসেননি।সারাজীবন রয়ে গেছিলেন ওয়াদিয়া হয়ে।অনমনীয় জেদ আর অধ্যবসায় সম্বল করে ব্যবসায় গতি আনলেন, এমনভাবে মানুষ করলেন ছেলেকে, আজও ভারতের ধনীদের তালিকায় প্রথম দশে জ্বলজ্বল করে নাসলি ওয়াদিয়ার নাম। দিনা ওয়াদিয়া চুপচাপ অন্তরালে থাকলেন। নাসলি ওয়াদিয়া মহম্মদ আলী জিন্নার একমাত্র ওয়ারিশ। আমাদের ভারতবর্ষের গর্ব।

মূলত বম্বে ডাইং এর মালিক তাঁরা। তাদের আরো অনেক ব্যবসা আছে। নাসলির দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আর নেস ওয়াদিয়া।প্রীতি জিন্তা সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়ানো নেস ওয়াদিয়া কে আমরা অনেকেই দেখেছি।কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অন্যতম মালিক নেস ওয়াদিয়া।

দিনা ওয়াদিয়া ২রা নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৭ ইং ৯৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান “এই আওয়াজ তোলা মহম্মদ আলি জিন্নার সমস্ত উত্তরাধিকারীই ভারতবর্ষে।পাকিস্তানে তাঁর কেউ নেই…

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close