স্পট লাইট

করোনার প্রোতিরোধে তিনটি ভিটামিন

ওমেনআই ডেস্ক : করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ৩(তিন)টি ভিটামিনের নাম শোনা যাচ্ছে। এই তিনটি ভিটামিন কি কি তা নিয়ে আলোচনা করা যাক। করোনার সংগে কি সম্পর্ক, সেটাও দেখা যাক। এ পৃথিবীর সব কিছু একটা সম্পর্কের মাধ্যমে চলে। সেই সম্পর্কটা বের করতে পারলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এটাকে Theory of Relativity বলে।
এ তিনটি ভিটামিন হলো-(১) ভিটামিন -সি, (২) ভিটামিন – ডি এবং (৩) জিঙ্ক।
♦(ক) ভিটামিন – সি,
ভিটামিন – সি মানুষের দেহ তৈরি করতে পারে না এবং জমাও(store) করতে পারে না। এজন্য প্রতিদিন নিয়মিতভাবে খেতে হয় শরীরের চাহিদা মিটানোর জন্যে। ভিটামিন-সি তাপে নষ্ট হয়ে যায়, সুতরাং কাঁচা খাওয়াই ভালো।
এবারে আসা যাক- এই ভিটামিনের কাজটা কিঃ-
কাজসমূহ-
(১) ভিটামিন-সি, একটি শক্তিশালী antioxidant
অর্থাৎ শরীরে খাদ্য হজম, যাকে বলে- metabolism, করার সময় কিছু ক্ষতিকারক পদার্থ তৈরি হয়,এটাকে বলে free radicals, এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর, এই ক্ষতিকর পদার্থকে ভিটামিন-সি প্রশমন(neutralise)করে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ে। শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়।
(২) ক্রোণিক রোগ – হৃদরোগ(Heart Disease),উচ্চরক্তচাপ(High blood pressure) এর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয় এবং রক্তনালির(Blood vessels) রক্ত প্রবাহের পথ প্রশস্ত বা সহজ করে।
(৩) ইউরিক অ্যাসিড – শরীরে যে ইউরিক অ্যাসিড
উৎপন্ন হয়,যার ফলে হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা, যন্ত্রণা হয় এবং বাত ব্যথা হয়। ভিটামিন-সি এই ইউরিক অ্যাসিডের লেভেলকে কমিয়ে দেয় এবং বাত ব্যথার যন্ত্রণাকে লাঘব করে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।
(৪) আইরণ(লৌহ) শোষণ -ভিটামিন সি আইরণের শোষন শরীরে বৃদ্ধি করে। আইররণ হলো রক্তের একটি উপাদান। ভিটামিন সি আবার রক্তের স্বেত কণিকা(RBC) উৎপাদনে সহায়তা করে। এই স্বেত কণিকা শরীরে রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে সৈন্যের মতো কাজ করে।শরীরে রোগ জীবাণু ঢোকার সংগে সংগে আক্রমণ করে এবং রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাস্ত করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ শরীরের শরীরের Immunity system কে শক্তিশালী করে।
(৫) কোলাজেন তৈরি – ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরীর মাধ্যমে শরীরের ত্বককে সুরক্ষা দেয়। ফলে কোন রোগ জীবাণু শরীরে সহজে ঢুকতে পারে না। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
(৬) ভিটামিন সি ভাইরাসের বিরুদ্ধে দারুণ শক্তিশালী যোদ্ধা।
উৎস কিঃ- সাধারণত লেবু,আমলকী, পেয়ারা,টমাটো, পেঁপে, পেঁয়াজ,কাঁচা মরিচ,আলু,
সবুজ শাকসবজি, কমলালেবু, ব্রোকলি ইত্যাদি।
♦(খ) ভিটামিন-ডিঃ
ভিটামিন-ডি মানব দেহ তৈরি করতে পারে।আবার বিভিন্ন খাদ্য থেকেও পাওয়া যায়।
ভিটামিন-ডি এর কাজ কিঃ-
(১) ভিটামিন ডি, হাড় ও দাঁত গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
(২) ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধে ব্রেণ ও স্নায়ুতন্ত্র( Nervous system) কে সুরক্ষা দেয়।
(৩) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, অর্থাৎ Immune systems কে শক্তিশালী করে।
(৪) শ্বসনতন্ত্র(Respiratory system)কে অর্থাৎ শ্বাসপ্রশ্বাসের অঙ্গসমূহকে সুরক্ষা দেয়। শ্বসন সংক্রমনক প্রতিরোধ করে। ক্ষতিকর জ্বালা যন্ত্রণা
( Harmful inflammation) থেকে রক্ষা করে।
(৫) ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকি কমায়।
(৬) শরীরে ক্যালসিয়ম,পটাশিয়াম ও ফসফরাস শোষনে সহায়তা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম বৃদ্ধি করে(Facilitate immune systems function).
উৎস কিঃ-
সূর্য – কিছুক্ষণ খোলা রৌদ্রে থাকলে মানব দেহে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। এছাড়া -সূর্যমুখী বীজ, বাঁধাকপি, গাজর,কাঁচা পেঁপে, পালং শাক, ডিমের কুসুম, গরুর কলিজা, দুধ, মাশরম,শস্যদানা শাকসবজি।
♦(গ) জিঙ্কঃ-
জিঙ্ক মানবদেহ তৈরি করতে পারে না, জমাও(Store) করতে পারে না। সুতরাং নিয়মিত খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা যায়।
কাজ কিঃ
(১) জিঙ্ক শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়
(Supporting immune systems)।
(২) ইনজাইমের কার্যক্রমকে বৃদ্ধি করে এবং পরিপাকক্রিয়া নিশ্চিত করে।
(৩) ক্ষত নিরাময়(Wound healing) ত্বরান্বিত করে।
(৪) সংক্রোমন(Infection) প্রতিরোধ করে।
(৫) ক্ষতিকর জ্বালা যন্ত্রণা বা প্রদাহজনক রোগের ঝুঁকি কমায়।
(৬) শ্বসনতন্ত্রের সংক্রোমন প্রতিরোধসহ সাধারণ ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়।
(৭) রক্ত জমাট বাঁধতে(Blood clotting) সাহায্য করে।
উৎস কিঃ-
দুধ,দই,কাজুবাদামসহ অন্যান্য বাদম,ছোলা, মটরশুঁটি, বিভিন্ন প্রকার ডাল,বীন,গম,মাংস, খোলসযুক্ত মাছ(চিংড়ি, ঝিনুক, কাকড়া),মাশরুম, লাউয়ের বিচি(pumpkinseed) ইত্যাদি।
এখন দেখা যাক- শ্রমজীবি মানুষ, রিকশাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা, নিম্ন আয়ের মানুষের করোনা ঝুঁকি কম কেন?
এসকল ভিটামিন শ্রমজীবি মানুষ পায় কিভাবে? শ্রমজীবি নিম্ন আয়ের মানুষ ভিটামিন সি- পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আলু,পাকা পেঁপে, পেয়ারা, লেবু ইত্যাদি সহজ লভ্য ফল থেকে পায়। পান্তাভাত খেলেও কিছু না থাকলে অন্তত পেঁয়াজ মরিচ থাকে, সেখান থেকেই ভিটামিন সি পায়। পান্তাভাত পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেখা গেছে, উপকারী। এতে কালসিয়াম ও ভিটামিন বি থাকে। যা শরীরের জন্য উপকারী।
ভিটামিন ডি-শ্রমজীবি মানুষ সারাদিন রোদে থাকে, পরিশ্রম করে, এতে ভিটামিন ডি- রোদ থেকে পায়।ডিম, শাকসবজী,গাজর,কাঁচা পেপে,শস্য দানা, পালং শাক, বাঁধা কপি ইত্যাদি থেকে পায়। দামী খাবার না খেলেও এসকল খাবার হাতের মধ্যেই থাকে।
জিঙ্ক – দামী খাবার থেকে না পেলেও ছোলা,বিভিন্ন প্রকার ডাল, গম,লাউয়ের বিচি এই সকল খাবার থেকে পায়।
সবচেয়ে বড় কথা হলো – করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য ব্যায়াম দরকার। শ্রমজীবি মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে। এই পরিশ্রম ব্যায়ামের চেয়েও বেশি কার্যকর। সারাদিন পরিশ্রমে শরীরের মাংসপেশীকে শক্তিশালী করে। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। শরীরের resistance বাড়ে। শ্বাস প্রশ্বাসের অঙ্গসমূহের ব্যায়াম হয়। ফলে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আর করোনা শ্বাস প্রশ্বাসের অঙ্গসমূহকে আক্রমণ করে।
আবার শ্রমজীবি মানুষ প্রতিকুল পরিবেশ,আবহাওয়া,যেমন- শব্দ দূষণ,পরিবেশ দূষন, আবহওয়া দূষন,ঝড় বৃষ্টি, বসবাসের প্রতিকুল পরিবেশের সংগে খাপ খেয়ে চলতে চলতে শরীরের রেজিস্টান্স বেড়ে যায়। দূষন মানেই হলো- রোগজীবাণু থাকবে। রোগ জীবাণুর সংগে থাকতে থাকতে এদের রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে শরীর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সুতরাং রোগ প্রতিরোধ শরীর সহজেই করতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে, রোগ সহজে হবে না।এতে দেখা যাচ্ছে, করোনায় শ্রমজীবি মানুষ কম আক্রান্ত হচ্ছে, নাই বললেই চলে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close