জাতীয়

ফুলেল শ্রদ্ধায় হলি আর্টিজান শহীদদের স্মরণ

ওমেনআই ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট ও বেকারিতে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার চার বছর পালিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরে ফুলেল শ্রদ্ধায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে।

শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। জঙ্গি সদস্যরা যখনই কোনো পরিকল্পনা করছে, তখনই আমরা গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে যাচ্ছি। একইভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, হলি আর্টিজান হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একের পর এক অভিযানে জঙ্গিরা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটানোর মতো সক্ষমতা নেই।

ওই সন্ত্রাসী হামলার পূর্তিতে বুধবার গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির সামনে অস্থায়ী শ্রদ্ধামঞ্চে র‍্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতের স্মরণে ফুল দেয়ার পর গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান তারা। বেলা ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিহতদের কারো পরিবারের সদস্যদের হলি আর্টিজানের সেই স্থানে আসতে দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না।

চার বছর আগে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা হলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হন। জঙ্গিদের প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার ও একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। ঘটনার পরদিন ভোরে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে হামলার অংশ নেয়া পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।

চার বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সকাল থেকেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল গুলশান-২ এর ওই এলাকা জুড়ে। ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রবেশের আগে রাস্তার মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে পুলিশ। পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্বরত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

হলি আর্টিজান বেকারির সেই ভবনে সামনে তৈরি করা শ্রদ্ধা মঞ্চে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করেন প্রথমে সকাল ১০টার দিকে ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এরপরই শ্রদ্ধা জানান র্যাবের মহাপরিচালক। এরপর একে একে আসেন ইতালি, আমেরিকা ও জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিদেশি দূতাবাসের কেউ কথা বলেননি। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন র‍্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

এসময় র‍্যাব প্রধান বলেন, আমরা কিন্তু আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। জঙ্গিবাদ দমনের যে সফলতা অর্জন করেছি, সেই সফলতাকে ধরে রাখতে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিট কাজ করছে। জঙ্গি সংগঠনগুলোর সক্ষমতা প্রসঙ্গে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সারা বিশ্ব জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় কাজ করছে। আমরাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে জঙ্গিবাদ দমন করতে সক্ষম হয়েছি। এই সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আমরা আশা করছি।

তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের এই দিনে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় মর্মান্তিক ও কাপুরুষোচিত ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি। নিহতদের স্বজনরা যাতে এই শোক সইতে পারেন সেজন্য তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

এর আগে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজান হামলার পর আমরা একের পর এক জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। জঙ্গিদের সক্ষমতা যে পর্যায়ে ছিল সেটি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। ইমপ্রোভাইজড বোমা বানানোর মতো এক্সপার্ট এখন আর নাই। তারা কেউ জেলে আছে অথবা বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। তাদের ছোটখাটো সক্ষমতা থাকতে পারে। কিন্তু বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটানোর সক্ষমতা নেই।

তিনি বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার পর বাংলাদেশ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং একই জঙ্গিবাদে জড়িতদের সক্ষমতা সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে জঙ্গিরা অনলাইনে হয়ত প্রচার-প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে।

তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, করোনাকালে স্বাভাবিকভাবে মানুষ বাসায় বেশি থাকে। তারা অনেকেই ধর্মীয় সাইটগুলোতে বেশি ভিজিট করছে। এই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা তাদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছি।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close