জাতীয়স্লাইড

বারডেমে কর্মবিরতিতে থাকা চিকিৎসকদের কাজে যোগ দিতে নোটিশ

নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে নির্দেশনার জবাব দিয়েছেন চিকিৎসকরা

ওমেনআই ডেস্ক : চাকরি স্থায়ীকরণ ও সব চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতিসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অস্থায়ী চিকিৎসকরা। এর মধ্যে গতকাল কর্মবিরতি পালনরত চিকিৎসকদের ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগদানের নির্দেশ’ দিয়েছেন বারডেম কর্তৃপক্ষ। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ কর্মবিরতি পালনরত চিকিৎসকরা নয়টি বিষয় উল্লেখ করে জবাব দিয়েছেন। চিকিৎসকরা এখন পর্যন্ত তাদের কর্মসূচিতে অনড় রয়েছেন।

বারডেমের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে কর্মবিরতি পালনরত চিকিৎসকদের স্নাতকোত্তর ট্রেনিং অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন। যা দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্মসূচিতে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘আজ তৃতীয় দিনের মতো আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা ওই নির্দেশের জবাব দিয়েছি। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মসূচিতে অনড় থাকব।’

তবে, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. কাউয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দেওয়ার পর ইতোমধ্যে ১৫-১৭ জন কাজে যোগ দিয়েছেন। আরও অনেকে কাজে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। আমাদের যতটুকু পারি তাদের সহযোগিতা করব। এখনো যেহেতু ২৪ ঘণ্টা শেষ হয়নি, তাই কিছু বলা যাচ্ছে না। আরও অনেকে কাজে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’

চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কর্মসূচিতে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক বলেন, ‘কয়েকজন কাজে যোগ দিয়ে থাকতে পারে। তবে, আমরা বেশিরভাগই আমাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছি। কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আমাদেরকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তবে, আমরা আপস করিনি।’

চিকিৎসকদের (অস্থায়ী) দাবিগুলো হলো— বৈষম্যমূলক আরএমও পোস্ট বাতিল করে সকল অস্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের (আরএমও, এমও এবং সহকারী রেজিস্ট্রার) চাকরি স্থায়ী করতে হবে; সকল চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত ও চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়ভার বারডেমকে নিতে হবে; কর্তব্যরত চিকিৎসকদের এবং তাদের পরিবারের জন্য কোভিড টেস্ট এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে; রোগী ভর্তির পূর্বেই করোনা টেস্টের মাধ্যমে কোভিড/নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং বারডেমে কর্তব্যরত থাকাকালীন কোনো চিকিৎসকের করোনায় মৃত্যু হলে এককালীন ১০ লাখ টাকা প্রণোদনা দিতে হবে।

এর আগে, গত ২৮ জুন থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অস্থায়ী চিকিৎসকরা। ওইদিন কর্মসূচিতে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা বারডেমের মহাপরিচালকসহ কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি তিন মাস আগে থেকেই করে আসছি। কিন্তু, তারা এসবে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তবুও আমরা রোগীদের সেবা দিতে পিছপা হইনি। আমাদেরকে যেসব পিপিই দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ধুয়ে তিন থেকে চার বার করে ব্যবহার করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের ১৫-২০ জন চিকিৎসক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ বারডেম কর্তৃপক্ষ কাউকে চিকিৎসা পর্যন্ত দিচ্ছে না।’

‘তাদের কয়েকজন বলছে, তারা আমাদেরকে এগুলো দিতে পারবে না। তাদের ইনকাম নেই, টাকা নেই। আমাদেরকেই বারডেম দেখতে হবে। এরপরও আমরা বিভিন্নভাবে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করি। (অস্থায়ী) যারা জীবন-ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, অন্তত তাদের চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার কথাও আমরা তাদের বলেছি। কিন্তু, তারা এসব মানতে নারাজ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দিনকে দিন ঝুঁকি আরও বাড়ছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল কাউন্সিলসহ বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে। কিন্তু, কোথাও আমাদের দাবিগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। আমরা কয়েকবার তাদের আল্টিমেটাম দেই। কিন্তু, কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি গ্রাহ্য করছে না। এই অবস্থায় আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কর্মসূচি পালন করছি’, বলেন তিনি।

চিকিৎসকদের এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস’ সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেস্পন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তাদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা এফডিএসআর একাত্মতা ঘোষণা করেছি।’

সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close