বিনোদন

শুভ জন্মদিন শিল্পী ফেরদৌসী রহমান

বিনোদন প্রতিবেদক : শিল্পী ফেরদৌসী রহমান, বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের পথিকৃৎ। একাধারে পল্লীগীতি, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত ও প্লেব্যাক সিঙ্গার। বাংলাদেশের বিরল প্রতিভা সম্পন্ন এই সঙ্গীত তারকা আজ রোববার জীবনের চলার পথে ৭৮ বছর পেরিয়ে ৭৯ বছরে পা রাখছেন।

অনেকটা শিশুকালেই শুরু হয়েছিল ফেরদৌসী রহমানের জীবনের সাফল্য। তার ধারাবাহিকতা এখনো বহমান।

অসাধারণ কণ্ঠ মাধুর্যের অধিকারী আমাদের কালের স্বমহিমায় ফেরদৌসী রহমান গানে গানে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা, সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’সহ দেশ বিদেশের অনেক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।

সবার প্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌসী রহমান রেডিও’র ‘খেলাঘর’ অনুষ্ঠানে জীবনের প্রথম গান করেন ১৯৪৮ সালে। ‘আসিয়া’ সিনেমাতে তারই বাবা পল্লীগীতি স¤্রাট আব্বাসউদ্দিনের সুরে আবদুল করিমের লেখা ‘ও মোর কালারে’ গানটি গান। অবশ্য তার আগেই ‘এদেশ তোমার আমার’ সিনেমায় গান গেয়ে প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে তার অভিষেক হয়। ফেরদৌসী রহমানের জন্ম কোচবিহারে ১৯৪১ সালের ২৮ জুন। দেখতে দেখতে ফেরদৌসী রহমান আজ রোববার ৭৯ বছরে পা রাখছেন। তবে তার এবারের জন্মদিন নিয়ে কোন বাড়তি আয়োজন নেই। কারণ দুই ছেলে রুবাইয়াত ও রাজিন আছেন দেশের বাইরে। তাছাড়া করোনার কারণে ফেরদৌসী রহমান কিছু প্রিয় প্রিয় মানুষ হারিয়েছেন। তাদের জন্য মন ভীষণ খারাপ তার।

ফেরদৌসী রহমান বলেন, ‘ আমরা যারা বলা যায় একসঙ্গে কাজ শুরু করেছিলাম তাদের অনেকেই আজ নেই। সে কারণে মন খারাপই থাকে। আবার করোনা’র কারণে দীর্ঘদিন যাদের সঙ্গে কাজ করেছি সেইসব প্রিয়মুখও চলে গেলেন। শ্রদ্ধেয় আনিসুজ্জামান স্যার, শ্রদ্ধেয় কামাল লোহানী, মোস্তফা কামাল সৈয়দ’সহ আরো বেশকিছু প্রিয় মানুষ আমরা হারিয়েছি। এতো এতো চেনা মানুষ বিগত মাত্র কয়েকটি দিনে আমরা হারিয়েছি যে মনটা সত্যিই ভেঙে গেছে। এই ভাঙা মন নিয়ে আসলে নিজের কথা কেমন করে ভাববো, ভাবা যায়না, আমি ভাবতে পারিনা। দেশের সার্বিক যে পরিস্থিতি তাতে আমার জন্মদিন কারো কাছেই তেমন গুরুত্ব বহন করেনা। আমি চাই আল্লাহ যেন সবাইকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। আবার যেন সবার সঙ্গে প্রাণ খুলে গল্প করতে পারি, সবার মুখে যেন হাসি দেখতে পারি। অন্যের হাসির মাঝেই নিজের সুখ না হয় খুঁজে নিবো।

ফেরদৌসী রহমান বেশকিছুদিন হলো নিজের আত্মজীবনী লিখছেন। তবে গেল দু’বছর যাবত তিনি আতœজীবনী লেখা নিয়ে ব্যস্ত।

এই সময়ের সঙ্গীতশিল্পীদের গায়কী প্রসঙ্গে ফেরদৌসী রহমান বলেন, এখন যারা গান করছেন তাদের মধ্যে অধ্যবসায়টা খুবই কম। মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, সৈয়দ আবদুল হাদী, খন্দকার ফারুক আহমেদের মতো বরেণ্য শিল্পীরা চাকরি করার পাশাপাশি গান করেছেন। তারপরও তারা গানে অধ্যবসায়ী ছিলেন। আর এখন যারা গান করছেন, তারা শুধুই গান করছেন। তাহলে সাধনা কেন করবে না? আমার কথায় রাগ হলেও আমি বলবো, সঙ্গীত এমন একটি বিষয় যে যতো বেশি সাধনা করবে সে ততো বেশি স্থায়ী হতে পারবে।

ফেরদৌসী রহমান তার নিজের বয়স নিয়ে কখনো লুকোচুরি করেননি। কারণ হিসেবে তিনি জানান মৃত্যুর পর বয়স নিয়ে অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়, তার ক্ষেত্রে যেন এমনটি না হয়।

ফেরদৌসী রহমান বাংলাবাজার স্কুল থেকে এসএসসি, ইডেন কলেজ থেকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স এবং পরবর্তীতে ইউনেস্কো ফেলোশিপ নিয়ে ল-নের ট্রিনিটি কলেজ অব মিউজিক থেকে স্টাফ নোটেশন কোর্স সম্পন্ন করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশেনর ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খালামনি হিসেবে এখনো দারুণ জনপ্রিয় তিনি। ফেরদৌসী রহমান হারুনর রশীদ পরিচালিত ‘মেঘের অনেক রং’ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তবে প্রয়াত রবিন ঘোষের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনার কাজ করেন প্রথম।

প্রায় ২৬০টি সিনেমাতে গান গেয়েছেন তিনি। তিনটি লং প্লে, ৫০০টি ডিস্ক রেকর্ড, প্রায় বিশটি ক্যাসেট’সহ পাঁচ হাজারেরও বেশি গান তার রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমানের সঙ্গে ফেরদৌসী রহমানের বিয়ে হয়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close