আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের নিরাপদ স্বর্গ : যুক্তরাষ্ট্র

ওমেনআই ডেস্ক : পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের নিরাপদ স্বর্গ বলে আখ্যায়িত করে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু জঙ্গি সংগঠনের জন্য নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তান রাষ্ট্র। তালেবান ও এর মিত্র হাক্কানি নেটোয়ার্ককে আশ্রয় দিচ্ছে দেশটি। একইসঙ্গে লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মুহাম্মদের মতো যেসব জঙ্গি সংগঠন ভারতের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে আসছে তাদেরকেও নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে ইসলামাবাদ। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে পাকিস্তানের এমন আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে এই প্রতিবেদনে আতে ঘা লেগেছে পাকিস্তানের। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। এ সপ্তাহের প্রথম দিকেই যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এতে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের সমালোচনা করা হয়। এ নিয়ে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন এ প্রতিবেদন নিয়ে আমরা হতাশ। পাকিস্তান এসব জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করে যাচ্ছে এবং তাদের অর্থায়নও বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে মার্কিন প্রতিবেদন সাংঘর্ষিক।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন ও আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ এনে যাচ্ছে পাকিস্তানের ওপর। দেশটির দাবি, পাকিস্তান কৌশলে তালেবান ও এর সহযোগি জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সাহায্য করছে। এর আগে এই অঞ্চলে আল-কায়দা দমনে পাকিস্তান বড় ধরণের ভ’মিকা পালন করেছে। তবে এরপরেও পাকিস্তানের সঙ্গে এক ধরণের অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। পাকিস্তানের অভ্যন্তর থেকে জঙ্গি নেতা মোল­া আখতার মনসুরকে হত্যার পর এ অবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়।
এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০১৮ সালে। মৌলবাদের উত্থানের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। প্রায় এক যুগ ধরেই ধুকছে দেশটির অর্থনৈতিক খাতগুলো। এরমধ্যে ওই বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে দেয়া বাৎসরিক ১.১ বিলিয়ন ডলার সাহায্যও বন্ধ করে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানকে বিপুল পরিমান অর্থ দিয়ে সাহায্য করা সত্বেও দেশটি তালেবানকে সাহায্য অব্যাহত রেখেছে। তবে পাকিস্তান বারবার এ দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close