অর্থনীতি

গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে যাচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল শ্রমিক

বেসরকারিকরণের ভাবনা আবারও

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের পাটকে এক সময় গোল্ডন ফাইবার বা সোনালি আঁশ বলা হতো। দেশের এক নম্বর অর্থকরী ফসল ছিল এটি। তাই এ অঞ্চলে একে একে গড়ে ওঠে পাটকল। কিন্তু আজ সেগুলো যেন সরকারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর লোকসান, তার মধ্যে আবার বিভিন্ন দাবি নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের লোকসানের বোঝা আর বইতে চাইছে না সরকার। তাই সব স্থায়ী শ্রমিককেই স্বেচ্ছা অবসরে (গোল্ডেন হ্যান্ডশেক) পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) বা অন্য কোনোভাবে পাটকলগুলো চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্যবস্থাপনাও ছেড়ে দেওয়া হবে বেসরকারি হাতে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, সরকারের উচ্চমহলের সিদ্ধান্তের পরপরই বিজেএমসি প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিলে শ্রমিকরা কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা শিগগিরই চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণে ২৬টি পাটকলের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ২৫টি। এর মধ্যে ২২টি পাটকল ও তিনটি নন–জুট কারখানা। পাটকলগুলোতে বর্তমানে স্থায়ী শ্রমিক আছেন ২৪ হাজার ৮৫৫ জন। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত বদলি ও দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছিল না। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তারা ৪৯৭ কোটি টাকার লোকসান গুনেছে। পরের বছর বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭৩ কোটি টাকায়। লোকসানের চক্কর থেকে বের হতে না পারায় কর্মীদের মজুরি বকেয়া পড়ে। বকেয়া বেতন ও ২০১৫ সালের মজুরি কমিশনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে বিজেএমসির আয়ও বছর বছর কমছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে করপোরেশনটির আয় ছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছর কমে ৭০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে পাটপণ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের হিস্যা মাত্র ৫ শতাংশ। পাটকলগুলো এত টাকা লোকসান দিয়েছে যে, তা আর সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। করোনার কারণে শ্রমিকদের ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল থাকবে। তবে ব্যবস্থাপনা বেসরকারিকরণ করা হবে, যাতে লোকসান না হয়। পিপিপির ভিত্তিতে মিলগুলো চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে শ্রমিকরা টাকা পাবেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close