মতামত

ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়ার কি চমৎকার আয়োজন!

শওগাত আলী সাগর

বর্ণবাদ আর বৈষমের প্রতিবাদে জানাতে হাজার হাজার মানুষ যখন কানাডা আমেরিকার রাস্তায় নেমে আসে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চোখ তখন কপালে উঠেছিলো। এনথনি ফউসির মতো বিশেষজ্ঞরাও প্রকাশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন,বলেছিলেন- ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়ার কি চমৎকার আয়োজন! জুনের শেষ প্রান্তে এসে বিশেষজ্ঞদের চোখ আবারো কপালে উঠছে। যে সব শহরে বিক্ষোভ হয়েছে, তার কোনো একটি শহরেও ভাইরাসের বিস্তৃতি বেড়েছে বা ছড়িয়েছে- তার প্রমান পা্ওয়া যাচ্ছে না। তা হলে কি হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামার ঘটনা ভাইরাস সংক্রমণে কোনো ভূমিকাই রাখেনি? অিটোয়ার পাবলিক হেল্থ অফিসার ইচেস ভেরা বলেছেন, অটোয়ার একটি সংক্রমণের উদাহরণও তারা পাননি যেটিকে বিক্ষোভ মিছিলের কারনে হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়।
মাসখানেক ধরেই পশ্চিমা গবেষকদের একটি গ্রুপ দাবি করছিলেন- বাইরের মুক্ত পরিবেশে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে না। কানাডার ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত জনস্বাস্থ্য বিষয়ক একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠানও গবেষনা করে দেখিয়েছিলো ‘আউট ডোর’ নয়, ‘ইনডোরেই’ করোনা ভাইরাস বেশি ছড়ায়। কিন্তু এইসব বক্তব্য বা গবেষণা জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারকরা তেমন একটা পাত্তা দেননি।
বিক্ষোভের পর তা হলে ওই শহরগুলোতে ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লো না কেন? বিক্ষোভ পরবর্তী অবস্থা গবেষণার তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলছেন, বিক্ষোভের আয়োজকরা একটা বিষয় নিশ্চিত করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের বাইরে বাকি সবাই ঘরে থাকবেন। যে সপ্তাহে বিক্ষোভ হয়েছে, শহরের অন্য মানুষগুলো সপ্তাহ ধরেই ঘরে বসে থেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনোমিক রিসার্চ এর এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বিক্ষোভে অংশ গ্রহণকারীদের কেউ কেউ হয় তো বা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু বিক্ষোভের কারনে কমিউনিটিতে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে- এমন ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close