স্বাস্থ্য

জরায়ুমুখের ক্যানসারে স্ক্রিনিং

ডা. এটিএম কামরুল হাসান

জরায়ুমুখের কোষগুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে এ ক্যানসারের সৃষ্টি হয়। তবে শারীরিক এ পরিবর্তন একদিনে হয় না। জরায়ুমুখের স্বাভাবিক কোষগুলো বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হয়ে ক্যানসার কোষে রূপান্তরিত হতে বেশ সময় লাগে। জরায়ুমুখে অনেক দিন ধরে ক্যানসারপূর্ব অবস্থা থাকতে পারে। ক্যানসারপূর্ব অবস্থা খালি চোখেও দেখা যায় না।

রোগের কারণ : জরায়ুমুখে ক্যানসার ৩৫ বছর এবং ৫০-৫৫ বছর বয়সে বেশি দেখা দেয়। এ ক্যানসার হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট একক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) এ ক্যানসারের জন্য দায়ী করা হয়। শুধু অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে জরায়ুমুখ সংক্রমিত হয়ে এ ক্যানসারে রূপান্তরিত হয়। এ পর্যন্ত ১৩০ ধরনের HPV ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে HPV ১৬, HPV ১৮ প্রজাতির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী।

যাদের হওয়ার আশঙ্কা বেশি : নিরাপদ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতা; বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ; অধিক ও স্বল্প বিরতিতে গর্ভধারণ; বহুগামিতা; অনেক দিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি সেবন; ধূমপান ইত্যাদি।

উপসর্গ : প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ুমুখ ক্যানসারের লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও ক্রমে যে উপসর্গগুলো দেখা দেয় তা হলোÑ যোনিপথে অতিরিক্ত সাদা স্রাব। বাদামি বা রক্তমিশ্রিত বেশি স্রাব। অনিয়মিত রক্তস্রাব। সহবাসের পর রক্তক্ষরণ। ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় রক্তক্ষরণ। তলপেটে বা কোমরে ব্যথা ইত্যাদি।

ক্যানসার-পূর্ববর্তী অবস্থা শনাক্ত : জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ুমুখে ক্যানসারের পূর্বাবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব। VIA/PAPS-এর মাধ্যমে জরায়ুমুখে ক্যানসারের পূর্বাবস্থা শনাক্ত হওয়ার পর Colpocopy-এর সাহায্যে বায়োপসি নিয়ে ক্যানসারের পূর্বাবস্থা নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগ নিরাময় সম্ভব। আবার খালি চোখে জরায়ুমুখ পরীক্ষা করে কোনো Growth, ulcer পাওয়া গেলে সেখান থেকে বায়োপসি নিয়ে হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার মাধ্যমে এ ক্যানসারের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

স্ক্রিনিং : ৩০ থেকে ৬০ বছরের নারীদের প্রতি ৩ বছর পর পর VIA-এর সাহায্যে জরায়ুমুখ পরীক্ষা করাতে হবে। ১৮ বছরের আগে বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে ২৫ বছর হলেই জরায়ুমুখ পরীক্ষা করাতে হবে। আবার বিয়ের বয়স ১০ বছরের বেশি হলে সে ক্ষেত্রে ৩০ বছরের কম বয়স হলেও জরায়ুমুখ পরীক্ষা করাতে হবে।

প্রতিরোধ : জরায়ুমুখে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য নারীদের শিক্ষিত হয়ে নিরাপদ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। বেশি সন্তান নেওয়া যাবে না। সঠিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী সব নারীর জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচির আওতাধীন থেকে প্রতি ৩ বছর পর পর জরায়ুমুখ পরীক্ষা করাতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিষেধক টিকা পাওয়া যাচ্ছে। এটি গ্রহণ করেও ক্যানসারমুক্ত থাকা যায়।

লেখক : মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ক্যানসার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ; চিফ মেডিক্যাল অফিসার

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

চেম্বার : মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিস লি.

জাকির সুপার মার্কেট, নারায়ণগঞ্জ

০১৯১৩১১৯৯৮৯; ০১৭৭৮৪৩৭৮৮৯

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close